‘জাল’ জ্যান্ত

প্রিয়জনদের শেয়ার করুন
865 বার লেখাটি পঠিত হয়েছে ~~~

সালটা ২০১৬, শীতের এক সকাল।  স্টেশন  মোড়ের মধুদা’র চায়ের দোকানে খবরের কাগজের পাতা উল্টাতে উল্টাতে অয়নের চোখ আটকে গেলো পাতার কোণের এক খবরে –‘ যত্তসব! কি হবে এসব ভুলভাল কাজে টাকা নষ্ট করে?’

‘কি হয়েছে রে?’ পাশ থেকে কাগজের পাতাটা টেনে নিয়ে ঋদ্ধি পড়তে শুরু করলো – ‘সার্ন এর গবেষণাগারে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়গ করলো ভারত!’ আচ্ছা সৌরভ কি রে এই সার্ন?’

‘ও মধুদা তুমি ওদের চা দিলে আমারটা কখন দেবে? ঋদ্ধির তো এই চারটে স্টেশন, আমার এক ঘন্টার পথ। জানইতো কর্পোরেট অফিস, দেরি হলে বসের চোখ রাঙানি। এই ঋদ্ধি একটু দেখ তো ট্রেন টা কত দূরে আছে?’

‘সে আমি দেখছি, তুমি আমাকে বল কি গো এই সার্ন?’

‘আরে ওই ঈশ্বর কণা শুনিস নি? ওসব কণা ফণা নিয়ে গবেষণা করে ওখানে। ‘

‘আরে আরে এই ধরো গরম চা।’ চায়ের কাপটা হাতে ধরিয়ে একটু ইতস্তত করে মধুদা বলল – বাবা সৌরভ একটা কাজ করে দিবি? ছেলেটার স্কুল ফাইনাল হল, ভূগোল নিয়ে পড়তে চায়, কোন কলেজে কবে থেকে ফর্ম  দেবে একটু দেখে দিবি?

‘আরে চিন্তা করো না, আমি ওয়েবসাইটে দেখে রাখব, অফিস থেকে ফেরার পথে তোমাকে বলে যাব।’

ইতিমধ্যে ওদিকে দুই কলেজ পড়ুয়ার মধ্যে তর্ক লেগেছে কে বেশি লম্বা শাহরুখ না সলমান তাই নিয়ে! ‘উফ এত তর্ক না করে গুগল করে দেখে নিলেই তো পারিস’, বলতে বলতে চায়ের কাপ টা রেখে হন্তদন্ত হয়ে ট্রেন ধরতে ছুটল ঋদ্ধি -সৌরভ।

গত তিন দশকে আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে যেভাবে ব্যাপক হারে পাল্টে দিয়েছে দুনিয়া জোড়া ব্যাপ্ত এক বিশাল জাল, যার পোশাকি নাম ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব’ (www) তাকে রূপকথা বললে অন্যায় হবে না। ট্রেনের টিকিট কাটতে এখন আর স্টেশন না গেলেও চলে, ফোন বা কম্পিউটারের এক ক্লিকেই বাজিমাত। ছেলেমেয়ে বাইরে পড়ছে টাকা পাঠাবেন? সেটাও সম্ভব ফোনের ওই এক ক্লিকে। এখন আর পরের দিনের সকালের খবরের কাগজের জন্য হন্যে হয়ে অপেক্ষা করে থাকতে হয়না, ওয়েবসাইট মারফত পেয়ে যাবেন দেশ ও দুনিয়ার সমস্ত খবর সরাসরি, তৎক্ষণাৎ। স্কুল কলেজের ভর্তির ফর্ম পূরণ থেকে শুরু করে, হাসপাতালের ডাক্তারের সাক্ষাৎ নেওয়া, ঘরে বসে অনলাইনে কেনাকাটি করা থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ থেকে খাবার অর্ডার করা, সিনেমার টিকিট কাটা, বিনোদন পার্কে প্রবেশপত্র সংগ্রহ- কি নেই সেই তালিকায়!  মহামারী চলছে, বই পড়ার ভীষণ শখ থাকলেও দীর্ঘদিন লাইব্রেরী যেতে পারছেন না? চিন্তা নেই সেই ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব’ (ডব্লু ৩!) আপনাকে করে দিয়েছে ঘরে বসে অনলাইনে লাইব্রেরীর বইগুলি পড়ার সুযোগ। লকডাউনের অনলাইন ক্লাস হোক বা আপনজনের সাথে ভিডিও কল, সবেতেই রয়েছে এই জালক এর অবদান। দূরত্বের বাধা অতিক্রম করে মানুষে মানুষে যোগসূত্র স্থাপন করেছে ডব্লু ৩। এককথায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্যভান্ডার সবকিছুকেই গত তিন দশকে নতুন রূপ দিয়েছে ‘দ্য ওয়েব’।

কিন্তু কিভাবে এল এই ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব’? একদিনে নিশ্চয়ই না! উত্তর খুজতে একটু পেছনে ফেরা যাক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষের এক দশকও হয় নি। যুদ্ধ-বিদ্ধস্ত ইউরোপ ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরার চেষ্টা চালাচ্ছে। দিনটা ১৯৫৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। ফ্রান্স-সুইজারল্যান্ড সীমানায় পশ্চিম ইউরোপের ১২ টি দেশ মিলে তৈরি করলো এক গবেষণা প্রতিষ্ঠান। মূলত পদার্থের মধ্যে থাকা পরমাণুর অভ্যন্তরীণ গঠন নিয়ে গবেষণার উদ্দেশ্যে তৈরি এই প্রতিষ্ঠান এর নামকরণ করা হলো ফরাসি ভাষায় যার ইংরেজি পরিভাষা দাড়ায় ‘ইউরোপিয়ান কাউনসিল অফ নিউক্লিয়ার রিসার্চ’ অর্থাৎ ইউরোপের পারমাণবিক গবেষণা পরিষদ, যা কিনা আমাদের কাছে অধিক পরিচিত সার্ন (CERN) নামে। ধীরে ধীরে পরিষদ টি রূপ নেয় কণা-পদার্থবিদ্যার অন্যতম বৃহৎ গবেষণাগারে। একের পর এক কালজয়ী ফলাফল আসতে শুরু করে ১৯৭০’এর দশক থেকে, যা পাল্টে দেয় পরমাণুর অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কে আমাদের সাবেক ধারণা কে। এই গবেষণাগারের  সাথে যুক্ত একাধিক বিজ্ঞানী পেতে থাকেন নোবেল পুরস্কার।  ২০১২ সালে পদার্থের ভরের জন্য দায়ী বহু চর্চিত ঈশ্বরকণা (গল্পের শুরুতে ঋদ্ধি ও সৌরভ এর মধ্যে এই কণা নিয়েই আলোচনা চলছিল) যার বৈজ্ঞানিক নাম হিগস বোসন (বিজ্ঞানী পিটার হিগস এর নামানুসারে যিনি প্রথম এই কবার অস্তিত্ব অনুমান করেছিলেন), আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে সাফল্যের আলাদা মাত্রায় পৌঁছে যায় এই গবেষণাগার (না না ঈশ্বরের সাথে এই কণার কোন যোগ নেই, বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের সাথে মিলিত ভাবে আমাদের দেশের অন্যতম বড় পদার্থবিদ সত্যেন্দ্রনাথ বসুর প্রস্তাবিত বোস- আইনস্টাইন পরিসংখ্যান মেনে চলা আরও অনেক কণার মতনই এটি একটি বোসন কণা – বিস্তারিত আলোচনা পরে কোনদিন করা যাবে)। ২০১৯ অব্দি এই প্রকল্পে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগের পরিমাণ দাড়ায়  ৯৬০০ কোটি ভারতীয় মুদ্রা!  প্রায় ১১৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ভারত ও সরাসরি যোগ দেয় প্রকাণ্ড এই গবেষণা কান্ডে। এ তো গেলো সাফল্য আর ব্যাপ্তির কাহিনী, কিন্তু বিজ্ঞানের আর পাঁচটি আবিষ্কারের মতই এটিও রাতারাতি হয়নি, হাজার হাজার গবেষক, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদদের রক্ত জল করা পরিশ্রম আর যুগান্তকারী উদ্ভাবনীর ওপর ভিত্তি করে ধীরে ধীরে এগিয়েছে এই গবেষণাগার। আর এই এগোনোর পথেই গবেষণার তাগিদে উদ্ভাবন হয়েছে আরও নতুন নতুন প্রযুক্তির যেসব কিনা পাল্টে দিয়েছে আমাদের সমাজ কে, অনেক কদম এগিয়ে দিয়েছে মানব সভ্যতাকে। তেমনি অজস্র আবিষ্কারের  মধ্যে একটি ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব’ যা উদ্ভাবিত হয়েছিল  এই গবেষণাগার থেকেই টিম বার্নার্স লি’র হাত ধরে।

সার্ন এর প্রতিষ্ঠার সমসাময়িক সময়েই ওদিকে ইংল্যান্ডে ১৯৫৫ সালের ৮ জুন জন্ম হল আমাদের গল্পের নায়ক টিম বার্নার্স-লি এর। একদম প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটার নিয়ে কাজ করা এক কম্পিউটার দম্পতীর জৈষ্ঠ্য সন্তান এই টিম-ই পাল্টে দেন আমাদের চেনা জগৎকে তাঁর বৈপ্লবিক আবিষ্কারের মাধ্যমে। পশ্চিম লন্ডনের স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর ১৯৭৬ সালে কুনই’স কলেজ থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক হন টিম। সে সময়েই পুরনো টেলিভিশন সেট থেকে কম্পিউটার তৈরি করে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। এরপর বেশ কিছু কোম্পানিতে কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা লাভ করার পর ১৯৮৪ সালে টিম যোগ দিলেন সার্ন-এ।

এদিকে আগেই বলেছি সার্ন তখন সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীদের আঁতুড়ঘর। মহাবিশ্বের প্রধান চারটি বলের (মহাকর্ষ, তড়িৎ চুম্বকীয়, শক্তিশালী, দুর্বল) অন্যতম  একটি দুর্বল বল।  (নামেই দুর্বল আদতে কিন্তু মহাকর্ষের থেকে বেশি শক্তিশালী! পদার্থের তেজস্ক্রিয় বিভাজনের জন্যে অনেকাংশে দায়ী  এই দুর্বলবল, শুধু তাই না মহাবিশ্বে এত ধরনের পদার্থ এর উৎপত্তির  পেছনেও রয়েছে এই দুর্বল বলের প্রভাব, সেসব আলোচনা আজ থাক) আর এই দুর্বল বলের জন্য দায়ী তিনটি কনা আবিস্কার করে নোবেল পেয়েছেন সার্ন এর বিজ্ঞানীরা।  কিন্তু এসবের মাঝেও দেখা দিল এক অদ্ভুদ সমস্যা যা কিনা তখনও অব্দি কোন বৈজ্ঞানিক গবেষণাগারই সম্মুখীন হয় নি! হবেই বা কি করে? এরম ব্যাপক কর্মকাণ্ড আগে তো হয়নি বিজ্ঞানের ইতিহাসে, যেখানে কিনা প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্ত বিশ্বের  কমবেশি ১০০ টি দেশের ১৭০০০ বিজ্ঞানী! এখানে হয়ে চলা নানা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করতে হন্যে হয়ে থাকেন দুনিয়ার তাবড় বিজ্ঞানীরা। কিন্তু কি করে সম্ভব এত বিপুল পরিমাণ তথ্য আদান প্রদান করা বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বিজ্ঞানীদের মধ্যে? শুধু তথ্য পৌঁছে দিলেই চলবে না, ফলাফলের তাৎক্ষণিক বিশ্লেষণ এর ব্যাপারে সহযোগী দল কে সঠিক সময়ে অবগত করতে হবে! সমস্যার সূত্রপাত সেখানেই। আর এই আপাত দৃষ্টিতে পুরোপুরি বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানই ৯০ এর দশকের  শুরুতে  নিয়ে আসলেন টিম বার্নার্স-লি এক বৈপ্লবিক প্রযুক্তির মাধ্যমে, যা পরের মাত্র তিন দশকে বদলে দিয়েছে মানব সভ্যতাকে।

ওদিকে ১৯৬০ এর দশক থেকেই চেষ্টা শুরু হয়েছিল একাধিক কম্পিউটার কে যুক্ত করে সেগুলির মধ্যে তথ্য আদান প্রদান করা। ক্রমে তৈরি হলো কম্পিউটার নেটওয়ার্ক। ৭০ এর দশকের মাঝ বরাবর অনেকগুলি বিষম ধর্মী নেটওয়ার্ককে যুক্ত করে বিশ্বব্যাপী সার্বজনীন যোগাযোগের ব্যবস্থা স্থাপন করা সম্ভব হল, যাকে আমরা বলে থাকি ইন্টারনেট। তার সাথেই এলো তথ্যের আদান প্রদানের নিয়ম নীতিও। কিন্তু, ই-মেইল এবং কিছু ফাইল আদান প্রদান ছাড়া কোন ভাবেই ইন্টারনেট কে ব্যাপক ভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছিল না। অন্যদিকে ততদিনে যোগাযোগ সূত্র (বা হাইপারলিংক; একটু বুঝতে অসুবিধা হলো তাই না! আচ্ছা এই দেখুন পাশের এই দলবল শব্দটিতে টোকা দিলেই আপনি পৌঁছে যাবেন ‘এলেবেলে দলবল’ পৃষ্ঠায়, এটিই হাইপারলিংক, যা দিয়ে এক পৃষ্ঠা থেকে নিমেষেই আরেক পৃষ্ঠায় পৌঁছে যাওয়া যায়!) ব্যবহার করে একাধিক ডকুমেন্ট ফাইল (বা হাইপারটেক্সট) কে একে অপরের সাথে যুক্ত করার ধারণাও প্রতিষ্ঠা পেয়েছে (যেমন ধরুন ‘এলেবেলে’ এর প্রতিটি পৃষ্ঠায় এক একটি হাইপারটেক্সট!)। আর ঠিক এখানেই যুগান্তকারী অবদান টিম লি’র। এসবের মধ্যে সেতু বন্ধন করলেন তিনি। আগেই বলেছি টিম ছিলেন কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং এ পারদর্শী। ১৯৮৯ সালের মার্চ মাসে এক গবেষণা প্রস্তাব পেশ করলেন উনি, কিছুটা পরিবর্তন করে ১৯৯০ এর মে মাসে দ্বিতীয় গবেষণা প্রস্তাব পেশ করলেন ‘ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট এ প্রোপোজাল’ নাম দিয়ে। প্রস্তাবের খসড়া তে উনি যা  লিখলেন তা  অনেকটা এরকম  –

‘সার্ন এর ত্বরণ যন্ত্র এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগুলির তথ্যের ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যে এই প্রস্তাব। মূলত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার তথ্যের আদান প্রদানের সময় তথ্যের নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া এবং তার প্রতিকারের পথ খোঁজাই উদ্দেশ্য এই গবেষণার।

এই সেই প্রস্তাবের প্রথম পৃষ্ঠা। চিত্র সূত্র CERN। 

 

‘অস্পষ্ট, কিন্তু আকর্ষণীয়’ বলে এই প্রস্তাব গৃহীতও হল।  নতুন উদ্যমে লেগে পড়লেন টিম। অল্প দিনেই তিনি তৈরি করে ফেললেন বিশ্বের প্রথম ওয়েব সার্ভার (নেটওয়ার্ক সিস্টেম এ যে কম্পিউটারে সমস্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকে) এবং ব্রাউজারটি (যা কিনা ব্যবহৃত হয় তথ্যগুলি পড়তে দেখতে ডাউনলোড করতে, এটি দিয়ে ঝাঁপ দেওয়া যায় এক বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে)। আত্মপ্রকাশ পেল ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব’ বা দ্য ওয়েব। আন্তঃসম্পর্কযুক্ত এবং আন্তঃসংযুক্ত হাইপারটেক্সট ডকুমেন্টের বিপুল সংগ্রহ হলো এই ওয়েব। ফাইল গুলিতে স্থান পেল লেখা, ছবি, স্থির ও চলমান চিত্র, শব্দ, কম্পিউটার প্রোগ্রাম সমূহ ইত্যাদি। ১৯৯০ এর ২০ ডিসেম্বর প্রকাশ পেল দুনিয়ার প্রথম ওয়েব সাইট info.cern.ch। (এই website আজও আছে। দেখে আসবেন নাকি? এইখানে দেখুন) আজ যদিও সেদিনের চেহারা নেই। যুগের সাথে পাল্টে গেছে। তবে CERN ভোলেনি। আজ গেলে দেখতে পাবেন সেই প্রথম দিনের website এর  ছবি। নিজের হাতে অল্প বিস্তর নেড়ে দেখতেও পারবেন।) গল্পে ফিরি, ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব’ এর ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীদের মধ্যে তথ্যের আদানপ্রদানে এল যুগান্তকারি পরিবর্তন। বিশ্বব্যাপী সাড়া ফেলে দিল এই উদ্ভাবন।  ১৯৯১ এর ডিসেম্বর মাসে আমেরিকাতেও প্রথম ওয়েব সার্ভার তৈরি হয়ে গেল সেও আবার এক পদার্থবিদ্যার গবেষণাগারে।  ১৯৯৩ শেষ হতে হতে সারা বিশ্বে ওয়েব সার্ভার এর সংখ্যা দাঁড়িয়ে গেল প্রায় ৫০০ (এখন কয়েক’শ কোটি!) এবং দুনিয়া জোড়া ইন্টারনেট ট্রাফিকের ১% দখল করে নিলো এই তিন ডব্লু (ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব)! মজার ব্যাপার সেই সময়ে ইন্টারনেট ট্রাফিকের বাকি ৯৯ % ব্যবহৃত হত ইমেইল এবং ডিজিটাল ফাইল আদান প্রদানে! (একবার আজকের দিনের সাথে তুলনা করে ভেবে দেখুন!) কিন্তু  এখানেই থেমে না থেকে ৩০ এপ্রিল ১৯৯৩ নিতান্ত গবেষণা এর তথ্য আদান প্রদানে তৈরি এই আবিস্কার উন্মুক্ত করা হল সর্বসাধারণের জন্যে মানব জাতির বৃহত্তর স্বার্থে। বাকিটা রূপকথা। তথ্য ভাণ্ডার হয়েছে উন্মোচিত, জ্ঞানের বিস্তারের সীমারেখা অবলুপ্ত হয়েছে। আর হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন, আজ আমরা ‘এলেবেলে’ যে আপনাদের কাছে পৌছতে পেরেছে , তাও কিন্তু ঐ ‘দ্য ওয়েব’ এর দৌলতেই!

লেখার শুরুতেই যে কাল্পনিক চিত্র উপস্থাপনা করেছি তা কিন্তু নিছক কল্পনা নয়, তা বাস্তব থেকে সম্পূর্ণ অনুপ্রাণিত। গবেষণাগার এবং তাতে ব্যয় হওয়া অর্থ আজও সমাজের এক বিশাল সংখ্যক মানুষের কাছে অপচয় বলে গণ্য হয়! অথচ শুধু সার্ন নয়, নানান দেশের নানান ছোট বড় গবেষনাগার গুলি (এই ধরুন, আমাদের দেশের  মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো’র ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে বিস্তর, কিন্তু জানলে অবাক হয়ে যেতে হয় যে এই সংস্থাও কিভাবে তার প্রযুক্তি উৎসর্গ করে চলেছে মানব জাতির সেবায়!) শুধু যে বিজ্ঞানের অগ্রগতি ঘটিয়ে অজানা কে সকলের সামনে উপস্থাপন করছে তা নয়, পাশাপাশি গবেষণাগারগুলি মানব সভ্যতাকে উপহার দিয়ে চলেছে একের পর এক প্রযুক্তি যা কিনা বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসছে আমাদের সমাজে।’

 

—————————–

~ কলমে এলেবেলে অর্কব্রত ~

এলেবেলের দলবল

► লেখা ভাল লাগলে অবশ্যই লাইক করুন, কমেন্ট করুন, আর সকলের সাথে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন। 

► এলেবেলেকে ফলো করুন। 

6 thoughts on “‘জাল’ জ্যান্ত

Leave a Reply

free hit counter
error

লেখা ভালো লেগে থাকলে দয়া করে শেয়ার করবেন।