ও যে মানব কোষ দিয়ে তৈরি সে দেশ, ব্যাক্টেরিয়া দিয়ে ঘেরা (অন্তিম পর্ব): ত্বকের ব্যাধি

প্রিয়জনদের শেয়ার করুন
227 বার লেখাটি পঠিত হয়েছে ~~~

 

 

পরদিন সকালের হাড় কাঁপানো শীত উপেক্ষা করেই ধড়পড় করে ঘুম থেকে উঠে বসলো অর্ণব। ঘড়িতে তখন সাড়ে ছটা। প্রাতরাশ শেষ করেই স্কুলের পথে রওনা দিল। শ্রেণিকক্ষে ঢুকতে ঢুকতেই বাচ্চাগুলোর মুখে অধীর আগ্রহ দেখতে পেল সে। জানার আগ্রহ…শেখার আগ্রহ.. শুভ সকালের এক মিষ্টি বার্তা দিয়ে পড়ানো শুরু করল অর্ণব।

 

—গতকালের পড়াটা সবার মনে আছে তো?

 

হ্যাঁ স্যার।

 

আচ্ছা তাহলে আজ আমরা শুরু করি ত্বকের বিশেষ বিশেষ কিছু রোগের গল্প নিয়ে। ত্বকের রোগ বলতে যার নাম আমাদের সর্বপ্রথম মাথায় আসে তা হল কুষ্ঠ বা লেপ্রসিআগেকার দিনে যখন বিজ্ঞান এত উন্নত ছিলনা, বহু মানুষ এই কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেত। এমনকি ইংল্যান্ডের রাজা চতুর্থ হেনরিও এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এখনো পর্যন্ত অনেক অজপাড়া গ্রামের মানুষ এই রোগকে অপদেবতার ছায়া বা গতজন্মের পাপের ফল হিসেবে মনে করে। কিন্তু বিজ্ঞান..বিজ্ঞান কি তা বলে?

এখনো পর্যন্ত অনেক অজপাড়া গ্রামে মানুষ কুষ্ঠ রোগকে অপদেবতার ছায়া বা গতজন্মের পাপের ফল হিসেবে মনে করে। কিন্তু বিজ্ঞান..বিজ্ঞান কি তা বলে?

 

কখনোই না। কুষ্ঠ রোগের পিছনে দায়ী কোনো অপদেবতা বা পাপ কাজ নয়। বরং দুটি অদৃশ্য জীব

মাইকোব্যাক্টেরিয়াম লেপ্রি এবং মাইকোব্যাক্টেরিয়াম লেপ্রোমাটোসিস। এই দুই ব্যাক্টেরিয়ার কারসাজিতেই মানবদেহে কুষ্ঠ রোগ দেখা যায়। আচ্ছা, বলে রাখা ভালো যে কুষ্ঠ বা লেপ্রসিকে ‘হ্যানসেন ডিজিজ’ (আবিষ্কারকের নামানুসারে) ও বলা হয়। ভারত সহ নেপাল, ভুটান, ব্রাজিল ও আফ্রিকার বেশ কিছু জায়গায় এই রোগের প্রভাব বেশি।

বলা বাহুল্য ব্যাক্টেরিয়া আক্রমণের প্রায় এক থেকে কুড়ি বছরের মধ্যে রোগীর দেহে রোগলক্ষণ প্রকাশ পায়।

 

তা কি কি লক্ষণ দেখা যায় এই রোগে?

এই রোগের অন্যতম লক্ষণ ত্বকের উপর লাল বা গোলাপি বর্ণের ছোপ ছোপ দাগ। স্নায়ু কোষ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কারণে এই স্থানগুলো সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলে। ফলে উষ্ণতা বা বেদনা অনুভব করা যায় না। অনেক সময় ছোপগুলি ত্বকের স্বাভাবিক রঙের চাইতে ফিকেও হতে পারে।

 

 

দ্বিতীয় ধাপের সংক্রমণে (অর্থাৎ যখন লেপ্রসির সাথে অন্যান্য ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ হয়) দেহ কোষগুলি মরতে শুরু করে এবং আঙুল বা পায়ের পাতা ক্রমশ বিকৃত ও ছোটো হতে থাকে।

 

এই রোগের অন্যতম একটি লক্ষণ হল স্নায়ুর বিকলাঙ্গতা। স্নায়ু কোষ বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে পেশি কার্যকারিতা হারায় এবং অসাড়তা সহ বিকলাঙ্গতা বা প্যারালাইসিসও দেখা যায়।

এই রোগ ছড়ানোর মূল পথ হল ত্বকের সংস্পর্শ এবং শ্বাসনালী। কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বক নিঃসৃত রস এবং হাঁচি-কাশির মাধ্যমে লেপ্রসির ব্যাকটেরিয়া এক দেহ থেকে অন্য দেহে সংক্রমিত হয়।

 

কাদের এই রোগ সংক্রমণের ভয় বেশি?

গবেষণায় দেখা গেছে যে মাইকোব্যাক্টেরিয়াম লেপ্রি আক্রমণের পরেও ৯৫ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে সেই রোগ প্রকাশ পায় না। এক্ষেত্রে তাদের অনাক্রম্য ব্যবস্থায় নিয়োজিত কোষগুলি সংক্রমণের প্রথম ধাপেই সে ব্যাক্টেরিয়াকে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। এবার মনে হতে পারে যে, সবার ক্ষেত্রে তা কেন হয় না? এটি নির্ভর করে কোষভিত্তিক অনাক্রম্য ব্যবস্থার ওপর, যা বিশেষ জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। অনেকের ক্ষেত্রে এটি দুর্বল হওয়ার কারণে তাদের কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি হয়।

 

কীভাবে এই ব্যাক্টেরিয়া রোগীর  দেহে বাসা বাঁধে?

কুষ্ঠ রোগে স্নায়ু ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই রোগের ব্যাক্টেরিয়ার উপরিভাগে এক বিশেষ ধরনের প্রোটিন (ল্যামিনিন সংযুক্তকারী প্রোটিন) এবং শ্বেতসার সংযুক্ত লিপিড (PGL-1, একধরনের গ্লাইকো-কনজুগেট) থাকে, যার সাহায্যে তারা মস্তিষ্কের এক বিশেষ ধরনের কোষ “সোয়ান কোষ”এবং প্রান্তীয় স্নায়ুর ল্যামিনিনের সাথে যুক্ত হয়। ফলস্বরূপ স্নায়ু কোষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তার পরিবাহিতা নষ্ট হয়ে যায়। ধীরে ধীরে রোগীর ত্বকের বিভিন্ন অংশে অসাড়তা দেখা যায়। এক্ষেত্রে রোগীর চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। তা না হলে বিকলাঙ্গতা বা মৃত্যু ঘটতে পারে।

 

কীভাবে কুষ্ঠ রোগ নির্ধারণ করা যায়?

প্রাথমিকভাবে দেহের লাল বা গোলাপি বর্ণের ছোপ এবং অভিক্ষেপ দেখে এই রোগ বোঝা গেলেও দেহের সংক্রমিত স্থান থেকে ব্যাক্টেরিয়া সংগ্রহ করে তার DNA-এর সজ্জা পলিমারেজ চেন বিক্রিয়ার সাহায্যে দেখা হয়, যার দ্বারা কুষ্ঠ রোগ নির্ণয় করা যায়। এছাড়া এই রোগের ব্যাক্টেরিয়াকে এক বিশেষ ধরনের রঞ্জন পদ্ধতির (অ্যাসিড ফাস্ট রঞ্জন পদ্ধতি) সাহায্যেও ঠাওর করা যায়।

 

এছাড়া রয়েছে লেপ্রামিন পরীক্ষা। এক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় মাইকোব্যাক্টেরিয়াম লেপ্রিকে অ্যান্টিজেন হিসাবে ব্যবহার করে ইনজেকশনের মাধ্যমে ত্বকের নিচে অর্থাৎ সাবকিউটেনিয়াস স্তরে প্রবেশ করানো হয়। এরপর সেই ব্যক্তিকে তিনদিন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। যদি ইনজেকশনের স্থানে তীব্র বিক্রিয়া না ঘটে, তাহলে ব্যক্তি কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়নি। তখন আরও ২৮ দিন পর পুনরায় পরীক্ষা করা হয়।

বলাবাহুল্য BCG টিকা (ব্যাসিলাস ক্যালমেট গুয়ারিন) যক্ষ্মা প্রতিরোধের সাথে সাথে অনেকাংশে কুষ্ঠ রোগকেও প্রতিরোধ করে। তাই প্রতিটি শিশুর বিসিজি টিকাকরণ (BCG Vaccination) ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসা পদ্ধতি: মূলত তিন ধরনের ওষুধ কুষ্ঠ রোগে ব্যবহার করা হয়; রিফাম্পিসিন, ড্যাপসোন ও ক্লোফাজিমিন। অনেকসময় এইসব ওষুধের বিরুদ্ধে রোগীর দেহে প্রতিরোধ ক্ষমতা জন্মালে সেক্ষেত্রে অন্যান্য ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। বলাবাহুল্য BCG টিকা (ব্যাসিলাস ক্যালমেট গুয়ারিন) যক্ষ্মা প্রতিরোধের সাথে সাথে অনেকাংশে কুষ্ঠ রোগকেও প্রতিরোধ করে। তাই প্রতিটি শিশুর বিসিজি টিকাকরণ (BCG Vaccination) ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।

 

একজিমা: ত্বকের এপিডারমিসের কেরাটিন স্তর থেকে অত্যাধিক মাত্রায় জলকণা বেরিয়ে গেলে ত্বকের কেরাটিন স্তর শুষ্ক হয়ে ফেটে যায়। সেক্ষেত্রে সংক্রামিত জায়গাটা প্রথমে লাল হয়ে ফুলে ওঠে এবং খুব চুলকায়। অবশেষে ক্ষতস্থানটি শক্ত হয়ে যায়।

 

এই রোগের পিছনে বেশ কিছু পরিবেশগত কারণ রয়েছে; যেমন অস্বাস্থ্যকর, দূষিত পরিবেশে থাকলে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়াও রয়েছে জিনগত কারণ। গবেষণায় দেখা গেছে কিছু বিশেষ ধরনের পরিবর্তনশীল জিন (OVOL1, ACTL9, IL4-KIF3A) এই রোগের সাথে জড়িত।

এই রোগের চিকিৎসা হিসেবে সাধারণত স্টেরয়েড ক্রিম এবং অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ ব্যবহার করা হয়।

সোরিয়াসিস ছোঁয়াচে রোগ নয়।

সোরিয়াসিস: এটি একটি ক্রনিক অসুখ, অর্থাৎ দীর্ঘকাল স্থায়ী ব্যাধি। তবে এটি একদমই ছোঁয়াচে নয়। সাধারণত ২৮ থেকে ৩০ দিন অন্তর অন্তর আমাদের দুই বহিস্ত্বকের উপরিভাগের কোষগুলি ঝরে যায় এবং তা নতুন কোষ দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়। কিন্তু সোরিয়াসিস রোগে এই বহিস্ত্বকই ৩ থেকে ৫ দিন অন্তর অন্তর প্রতিস্থাপিত হতে শুরু করে এবং তখনই সমস্যা শুরু হয়।

 

 

প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে অনাক্রম্যতন্ত্রের অন্তর্গত মেজর হিস্টো কম্পাটিবিলিটি কমপ্লেক্সের ৬-নম্বর ক্রোমোজোমে PSORS1 স্থানে কয়েকটি জিনগুচ্ছ থাকে, যারা বিভিন্ন অনাক্রম্য পথকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই জিনগুলিরই পরিব্যাক্তি বা মিউটেশনের ফলে সোরিয়াসিস রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে।

এই রোগে মূলত হাত, পা, কনুই, হাঁটু ও পিঠের উপর লাল চাকা চাকা দাগের সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে আঁশ আঁশ উঠতে থাকে। অবশেষে নখে গর্ত সৃষ্টি হয় এবং তা গোড়া থেকে খসে যায়। তখন সারা দেহে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। এই অবস্থাকে এরিথ্রোডারমিক সোরিয়াসিস বলা হয়।

এই রোগে স্টেরয়েড, কিছু ভিটামিন-এ জাতীয় ক্রিম ও ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।

শ্বেতি রোগে চামড়ার রঙ বা মেলানিন উৎপাদনকারী কোষগুলো ক্রমশ নষ্ট হতে শুরু করে। ফলে ত্বকের বর্ণ সাদা হয়ে যায়।

শ্বেতি বা ভিটিলিগো: শ্বেতি হল এক ধরনের ত্বকের অসুখ। এই রোগে চামড়ার রঙ বা মেলানিন উৎপাদনকারী কোষগুলো ক্রমশ নষ্ট হতে শুরু করে। ফলে ত্বকের বর্ণ সাদা হয়ে যায়। এটি একটি স্ব-অনাক্রম্য ব্যাধি (Autoimmune Disease)।

 

TYR জিন দ্বারা সংশ্লেষিত টাইরোসিনেজ প্রোটিন মেলানোসাইট কোষ থেকে মেলানিন উৎপাদনকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই রোগে একটি বিশেষ প্রোটিনের (NALP-1) ১৫৫ নম্বর অ্যামিনো অ্যাসিড লিউসিন প্রতিস্থাপিত হয় অন্য একটি অ্যামিনো অ্যাসিড হিস্টিডিন দ্বারা। যার ফলে দেহের অনাক্রম্য ব্যবস্থা অতিসক্রিয় হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক ক্ষরণের মাধ্যমে মেলানিন উৎপাদনকারী মেলানোসাইট কোষগুলিকে মেরে ফেলে।

 

এই রোগের সাথে অনেক ভুল ধারণা জড়িয়ে আছে। যেমন, শ্বেতি ছোঁয়াচে বা সাদা খাবার (দুধ, ডিম ইত্যাদি) খেলে এই রোগ বেড়ে যায়। কিন্তু তা একেবারেই নয়। এটি সম্পূর্ণই ভুল ধারণা।প্রতিটি মানুষকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে বিজ্ঞানমনস্ক পৃথিবী গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে, যেখানে কুসংস্কার এতটাই নগণ্য হবে যে তারা কাউকেই অন্ধকারের পথে ঠেলে দিতে সক্ষম হবে না।

 

তবে এই রোগে আক্রান্ত রোগী অনেকক্ষেত্রে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তাদের সৌন্দর্য্ বা সামাজিক স্বীকৃতির অভাবে। তাই শ্বেতি সম্পর্কিত ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে আর পাঁচটা মানুষের মতো সেই মানুষগুলোকেও ফিরিয়ে আনতে হবে সমাজের মূল স্রোতে।

 

শ্বেতি সম্পর্কিত ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে আর পাঁচটা মানুষের মতো শ্বেতি আক্রান্ত মানুষগুলোকেও ফিরিয়ে আনতে হবে সমাজের মূল স্রোতে।

জেরোসিস: এই রোগে ত্বক অত্যাধিক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে পড়ে। ফলে চামড়া উঠতে শুরু করে। এটি সাধারণত শীতকালে বেশি দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়া আবহাওয়ায় আদ্রর্তা কম থাকার কারণে ত্বক বেশি শুষ্ক হয়ে যায়। এই রোগকে শীতকালীন বা উইন্টার একজিমা ও বলা হয়।

 

এছাড়া ব্যাক্টেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাক দ্বারাও ত্বকে সংক্রমণ হতে পারে।

 

এছাড়া ব্যাক্টেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাক দ্বারাও ত্বকে সংক্রমণ হতে পারে।

  • ব্যাক্টেরিয়ার মধ্যে স্ট্যাফাইলোকক্কাস, স্ট্রেপটোকক্কাস, প্রোপিয়নিব্যাক্টেরিয়াম মূলত সেলিউলাইটিস, ইমপেটিগো, ফলিকিউলাইটিস বা ব্রণ ইত্যাদি রোগের সৃষ্টি করে।

  • ভাইরাসের মধ্যে মূলত চিকেন-পক্স (পক্স বা বসন্ত রোগের জন্য দায়ী), হারপিস ভাইরাস (হারপিস রোগের জন্য দায়ী), হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (ত্বকে ছোটো বড়ো আকারের আঁচিল সৃষ্টি করে) ত্বকে রোগের সৃষ্টি করে।

  • ছত্রাকের মধ্যে ক্যানডিডা (Candida; ক্যানডিডিয়াসিস, ঠোঁটের কোণে ঘা ইত্যাদি রোগ সৃষ্টি করে), ম্যালাসেজিয়া (Malassezia; ড্যানড্রাফ বা খুশকির জন্য দায়ী), পিটাইরিয়াসিস (Pityriasis; ছুলির জন্য দায়ী) অন্যতম।

 

প্রতিটি মানুষকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে বিজ্ঞানমনস্ক পৃথিবী গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে, যেখানে কুসংস্কার এতটাই নগণ্য হবে যে তারা কাউকেই অন্ধকারের পথে ঠেলে দিতে সক্ষম হবে না।

উল্লিখিত রোগ ছাড়াও ত্বকের অগুন্তি ব্যাধি রয়েছে। তবে বিশেষত এই রোগগুলি নিয়ে আজও গ্রামে গঞ্জে বা শহরেও নানান কুসংস্কার ছড়িয়ে আছে। তাই প্রতিটি মানুষের বিজ্ঞান জানা এবং বিজ্ঞানকে গ্রহণ করা উচিত। অনেকে বিজ্ঞান জানেন অথচ তাকে সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করেন না, অবশেষে কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে নিজেদের অন্ধকারের পথে ঠেলে দেন। তাই প্রতিটি মানুষকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে বিজ্ঞানমনস্ক পৃথিবী গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে, যেখানে কুসংস্কার এতটাই নগণ্য হবে যে তারা কাউকেই অন্ধকারের পথে ঠেলে দিতে সক্ষম হবে না। আর এভাবেই অবশেষে জয়ী হবে বিজ্ঞান।

গ্রামের পথে হেটে যাচ্ছে অর্ণব। তার চোখে মুখে এক অদ্ভুত ঊজ্জ্বল্য। কাল আবার এই গ্রাম ছেড়ে তাকে ফিরে যেতে হবে সুদূর কানাডার উদ্দেশ্যে। গ্রামের বাচ্চাদের কিছুটা হলেও সে শেখাতে পেরেছে, তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। মনে মনে অনুভব করল তবে কি একেই বলে অন্তরের পরিতৃপ্তি..!!!

 

তথ্যসূত্র- 

 

 

——————————————————

~ কলমে এলেবেলে দিশানী ~

 

এলেবেলের দলবল

► লেখা ভাল লাগলে অবশ্যই লাইক করুন, কমেন্ট করুন, আর সকলের সাথে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন। 

► এলেবেলেকে ফলো করুন। 

 

 

 

 

One thought on “ও যে মানব কোষ দিয়ে তৈরি সে দেশ, ব্যাক্টেরিয়া দিয়ে ঘেরা (অন্তিম পর্ব): ত্বকের ব্যাধি

  • February 21, 2021 at 4:11 am
    Permalink

    খুব খুব ভালো আর সংবেদনশীল রচনা হয়েছে। পড়ে আনন্দ পাওয়ার মতো লেখা। ভবিষ্যতে লেখিকার কাছ থেকে আরো লেখা পাওয়ার প্রত্যাশা রইল। অশেষ প্রশংসা করলাম অত ভালো রচনাটি উপহার দেওয়ার জন্য।

Leave a Reply

free hit counter
error

লেখা ভালো লেগে থাকলে দয়া করে শেয়ার করবেন।