যমজ-কাহন

প্রিয়জনদের শেয়ার করুন
464 বার লেখাটি পঠিত হয়েছে ~~~

শোনো! আহা একটু দাঁড়িয়েই যাও! নাহয় শুনেই যাও আমাদের আজকের গল্প। তবে এই গল্পের জাল বুনতে চাই দুটো বল। এক্কেবারে হুবহু দেখতে দুটি বল। ধরে নেওয়া যাক এদের রঙ ধপধপে সাদা। গল্পের খাতিরে এদের নামকরণ করে দিলাম… । ‘ক’ এবং ‘খ’। এদের এতটাই একইরকম দেখতে যে স্বয়ং নামকরণকারীই (অর্থাৎ কিনা এই আমি) ঠিক বলে উঠতে পারে না কোনটা যে কে! আর ঠিক এই কারণেই, আমার ডান হাতের বলটিকে বললাম ‘ক’, আর বাঁ হাতেরটিকে ‘খ’। এবারে মোড়ের মাথার রাম এবং শ্যামকে ডেকে পাঠালাম। ‘ক’-কে দিলাম রামের হাতে আর ‘খ’-কে শ্যামের। দুজনেই বল দুটিকে ছুঁড়ে দিলো। একটি বল পেলাম ফটিকের দোকানের বাঁ পাশের নারকেল গাছের গোড়ায় অন্যটি পেলাম দোকানের ডানপাশের তাল গাছের গোড়ায়। তাহলে বল দেখি, কোনটি ‘ক’? কোনটি ই বা ‘খ’?

ভাবছো, এও আবার সম্ভব নাকি! যদি ‘ক’ এবং ‘খ’ সত্যি সত্যিই এক্কেবারে একইরকম দেখতে হয়, তবে চিনি কি করে? … অত ব্যস্ত হয়ো না। আছে। চেনার উপায় একখানা আছে বইকি! আর উপায় বাতলাবেন স্বয়ং নিউটন মহাশয়। মানে, ওনার আবিষ্কৃত গতিসূত্র। যদি রামকে জিজ্ঞেস করে ঠিক ঠিক জেনে নিতে পারি যে সে কোথা থেকে ছুঁড়েছিল এবং ছোঁড়ার মুহূর্তে কত ‘জোরে’ ছুঁড়েছিল। অর্থাৎ, বিজ্ঞানের মাজাঘষা ভাষায়, ‘জোরে’ ছুঁড়েছিল বলতে বোঝাতে চাইছি, ছোঁড়ার মুহুর্তের যথার্থ গতিবেগ কি ছিল। আরোও যদি জানতে পারি, এই পুরো সময় জুড়ে ‘ক’-এর ওপর মোট কি কি বল চেপে বসেছিল। ব্যাস, এই তিনটি তথ্য জানা থাকলেই কেল্লা ফতে। নিউটন মহাশয়ের গতিসূত্র ব্যবহার করে চটপট গণনা করে ফেলা যাবে ‘ক’-এর গতিপথ। এবারে সেই গতিপথ ধরে এগিয়ে গেলে যদি ফটিকের দোকানের বামদিকে নারকেল গাছের কাছে পৌঁছাই, তবে নিঃসন্দেহে ওখানে পড়ে থাকা বলটিই হল ‘ক’। আর তার মানেই হল তালগাছের কাছে পড়ে থাকা বলটি হল ‘খ’। একে চেনার অন্য একটি উপায় হল শ্যামকে জিজ্ঞেস করে ঠিক ঠিক জেনে নেওয়া, ও কোথা থেকে দাঁড়িয়ে কত ‘জোরে’ বল ছুঁড়েছে। তারপরে হুবহু একইরকম ভাবে ‘খ’-এর গতিপথ গণনা করা, অতঃপর সেই পথ ধরে পৌঁছে যাওয়া ‘খ’-নামক সাদা বলটির কাছে… কি হল তো সমস্যার সমাধান! চিনে নিলাম তো হুবহু একই রকম দেখতে দুটো বলকে।

এটা তাহলে বেশ পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে, গতিপথ শুরুর মুহূর্তের কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রযুক্ত বল যদি জানা থাকে, তাহলে যে কোন বস্তুর গতিপথ জানা সম্ভব। আর এই গতিপথ জেনে যাওয়া মানেই যে কোন সময়ে ওই বস্তুর অবস্থান জেনে যাওয়া। আরও খোলসা করে বলা যাক। কোন বস্তুর গতিপথ মানেই হল, সময়ের সাথে সাথে ওই বস্তুটির পরিবর্তিত বা অপরিবর্তিত অবস্থান। যেটি জানা থাকলে তুমি আমাকে যখনই জিজ্ঞাসা করো না কেন আমি ঠিক বলে দিতে পারবো ওই বস্তুটি কোথায় আছে। বলে দিতে পারবো সেটি কাল সকাল ১০-টার সময়ে কোথায় ছিল, বা আজ বিকেল ৫-টার সময়েই বা কোথায় যাবে! তবে হ্যাঁ, এসব গণনাই কিন্তু একটি মূল বক্তব্যের ওপর দাঁড়িয়ে। যাতে করে ধরে নিচ্ছি, এই নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে বস্তুটিকে টেনে ধরা বা ঠেলে দেওয়া সকল ধরনের বলের হদিসই আমার জানা। এই ধরে নাও ‘ক’-কে রাম কিভাবে ছুঁড়েছে, কোথা থেকে ছুঁড়েছে , কি কি বল-ই বা ‘ক’ নামক বলের ওপর পড়তে পারে সবই আমরা জেনে বসে আছি। সেই অনুযায়ী অঙ্ক কষেছি। গতিপথ বের করেছি। জেনেছি যে ফটিকের দোকানের দোকানের বামপাশের নারকেল গাছের গোড়ায় বলটিকে পাবো। সেইমত নারকেল গাছের গোড়ায় জব্বর খোঁজ চালাচ্ছি। অথচ, মাঝ আকাশেই হয়ত একটি কাক এসে বলটিকে ঠোঁটে করে নিয়ে পালিয়েছে! তাহলে, তুমি বলবে “যত্তসব ভুলভাল অঙ্ক!”। আমি কিন্তু এবারেও আমার আগের বক্তব্যে অনড় থাকব। আমি বলব— বলা হয়েছে যে ‘ক’-এর ওপর কি কি বল প্রযুক্ত হয়েছে সব জানা দরকার। কাকে ‘ক’-এর ওপর যে বল লাগিয়েছে সেটিকেও যদি গণনার মধ্যে সঠিকভাবে গুঁজে দেওয়া যেত তাহলেই সমস্ত সমস্যার সমাধান হত। খামোখা নারকেল গাছের গোড়ায় হন্যে হয়ে খুঁজতে হত না।

আর এই যমজ সমস্যার সমাধান শুধু দুটি বল নয়, যে কোন সংখ্যক সদৃশ বস্তুর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এমনকি অসদৃশ বস্তুর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কিন্তু অসদৃশ বস্তু নিয়ে এখন মাথা ঘামাচ্ছি না। কারণ আমাদের আজকের আড্ডা চিনতে পারা নিয়ে। আর যারা শুরু থেকেই দেখতে আলাদা, তাদের চিনতে গতিপথ গণনা না করলেও চলে। মানে শুরুতেই যদি বলে দিতাম ‘ক’-এর রং লাল, আর ‘খ’-এর রং নীল। তবে তো গোড়াতেই সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। অতএব শুধু সদৃশদের নিয়েই পড়ে থাকবো আজ… তা সে যাই হোক… হু, কোথায় ছিলাম যেন… হ্যাঁ এতসব বকবক করে এটুকুই শুধু বলতে চাইছি যে এই গতিপথ গণনার হাত ধরে যে কোন সংখ্যক সদৃশ পদার্থসমূহ, তা সে যতই একইরকম দেখতে হোক না কেন, নিউটনীয় গতিসূত্রের হাত ধরে ঠিক কোনটি কোন সময়ে কোথায় আছে তা ঠিক বলে দিতে পারবো… হ্যাঁ সকলকার একটি নির্দিষ্ট সময়ের অবস্থান, সেই একই সময়ের গতিবেগ এবং সকলের ওপর প্রযুক্ত বলের হিসেব জানার পরই।

আহা আবার কোথায় পালাচ্ছ! এতটা শুনলেই যখন এই মজার যমজ কাহনের শেষ অংশটিও শুনেই যাও… আর বড়জোর পাঁচটি মিনিট সময় নেব… এতক্ষণ যা যা বলে গেলাম তা শুধুমাত্র নিউটনীয় বা সনাতন পদার্থগুলোর ক্ষেত্রেই খাটে। সনাতন পদার্থ মানেই প্রতিদিন চোখ মেলেই যাদের দেখি, মূলত সেই সকল জড় বা সজীব পদার্থগুলোই। আমি, তুমি, বাস, ট্রেন, সূর্য, চাঁদ, গ্রহ, তারা… ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু এবারে যদি অণু পরমাণুর জগতে ঢুকে যাই, তাহলে? … সে জগতে আর নিউটন মহাশয়ের অঙ্ক খাটে না, ফলে আমাদের একটু আগেকার এত্ত বকবকও আর খাটে না। তুমি জিজ্ঞেস করবে “কেন?”, তাহলে বলতে হয়…এই ছোট ছোট কণাদের জগৎ বা কোয়ান্টাম-জগৎ আমাদের রোজকার জগৎ-এর থেকে অনেক অনেক আলাদা। কণাগুলো সত্যি সত্যিই কণা, নাকি অনেকগুলি ঢেউ-এর সমষ্টি, বোঝা মুস্কিল। সঠিকভাবে তাদের স্থান, গতি একইসাথে সঠিকভাবে মাপা যায় না। আর এই সঠিকভাবে না মাপতে পারার কারণ কিন্তু যন্ত্রের সমস্যা নয়। কোয়ান্টাম জগতের এই এক অদ্ভুত ধর্ম। আমাদের প্রতিদিনকার পৃথিবী এবং কোয়ান্টাম-পৃথিবীর আমূল বিভেদের গোড়াতেই নিবদ্ধ এই একটিমাত্র কারণ। অনিশ্চয়তা। আর একটু বিষদে বলতে গেলে, তুমি যদি কোন কোয়ান্টাম কণার অবস্থান নির্ভুলভাবে জানতে চাও, তবে ওই একই সময়ে তার গতিবেগ মাপাই সম্ভব নয়! উল্টোদিকে, তার গতিবেগ নির্ভুলভাবে মাপতে হলে সেই একই সময়ে তার অবস্থান নির্ণয় কোনমতেই সম্ভব না! অর্থাৎ কিনা সম্পূর্ণভাবে অনিশ্চিত! এই কথাটি এক্কেবারে মাথায় ঢুকিয়ে নিতেই হবে কোয়ান্টাম জগতের রহস্য জানতে হলে।

এবারে ফিরে আসা যাক আবার ‘ক’ এবং ‘খ’-এর গল্পে। এবারে ধরে নিচ্ছি এরা কোয়ান্টাম কণা। আবারও এদের তুলে দিলাম রাম এবং শ্যামের হাতে। আগের মতো করে, ‘ক’ আর ‘খ’-কে আবার ছুঁড়ে দিল ওরা। আমরা দেখতে চাই সবশেষে ওদের চিনতে পারি কিনা! —- এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে বলে নেওয়া জরুরী যে, আমার বলা এই শেষ পরিচ্ছেদের প্রথম কয়েকটি বাক্য ভীষণভাবে ভুলে ভরা। কি কি ভুল? সেটা বলছি এক এক করে,

১। প্রথমত, এই দুটি কণা যদি কোয়ান্টাম কণা হয় তাহলে তাদের দেখতেই পাবো না। তার ওপর তারা যদি সদৃশ হয়, তবে তাদের এভাবে দুটো আলাদা নামকরণ সম্ভব নয়।

২। তবুও জোর করে মনে করা যাক নাম দিয়েই দিলাম। তারপরে ওদের রাম বা শ্যাম (বা অন্য কেউ) কারোর হাতে দেওয়াই সম্ভব নয়। কারণ? কারণ হল, কারুর হাতে আসা মানেই তাকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বাঁধতে যাওয়া। অর্থাৎ কিনা তার অবস্থান সুনির্দিষ্ট হয়ে গেল। আর অবস্থান সুনির্দিষ্ট হলেই তার গতিবেগ (আরও নির্ভুলভাবে বলতে হলে,‘ভরবেগ’) প্রচন্ড রকম অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। যার ফলে একটি সুনির্দিষ্ট জায়গায় কোন কোয়ান্টাম কণাকে বাঁধতে গেলে অসীম শক্তি প্রয়োজন। বাস্তবে যা, রাম, শ্যাম, যদু বা মধু সকলেরই অসাধ্য। সুতরাং ধরতেই যদি না পারি, ছুঁড়বোই বা কি করে!

তবুও তর্কের খাতিরে আপাতত ধরে নিলাম, অসীম শক্তিধর কোন যোদ্ধা দুই হাতে দুটো সদৃশ কোয়ান্টাম কণা ধরে দিল ছুঁড়ে আকাশের দিকে। তারা যখন নীচে মাটিতে নেমে এল আগের মতন গতিপথ গণনা করে এদের চিনতে গেলে, কিছুতেই চিনতে পারবো না। কারণ দুটি। এক, গতিপথ গণনায় যে তিনটি জিনিস জানতেই হবে, (অর্থাৎ কিনা শুরুর সময়কার অবস্থান, গতিবেগ, ও কার্যকারী বল) তার মধ্যে প্রথম দুটি একইসাথে নিশ্চিতভাবে জানা কোন মতেই সম্ভব নয়। যার জন্য কেবল এবং কেবলমাত্র দায়ী কোয়ান্টাম জগতের অনিশ্চয়তা। দুই, নিউটন মহাশয়ের অঙ্ক পদ্ধতি এখানে ব্যবহার যোগ্য নয়। স্রডিনঙ্গার নামের অন্য আরেক মহাশয়ের গণনা পদ্ধতি ব্যবহার করে একটা সম্ভাব্য গতিপথ রচনা করা যায় বইকি। তবে নিউটনীয় গতিপথের মত সেটি একটি স্বচ্ছ রেখা নয় একেবারেই। বরং, মোটা কলমে আঁকা একখানা দাগের মতো। একটি নির্দিষ্ট সময়ে ওই মোটা দাগের প্রস্থের যে কোন জায়গায় কণাটিকে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে… তা সে যাই হোক! মনে করা যাক আমি চোখ রাখলাম যোদ্ধার ডানহাত থেকে বেরিয়ে যাওয়া কণাটির দিকে। আর তুমি চোখ রাখলে তার বামহাত থেকে ছিটকে আসা কণাটির দিকে। এবারে এই পুরো সময়টা জুড়ে যদি এরা একে অন্যের থেকে অনেক দূরে দূরে থাকে তাহলে, তবুও একটা সম্ভাবনা আছে কোনটা যে কে, তা জানার। কিন্তু ভুলেও যদি যাওয়া বা আশার পথে একে অন্যের পথ কাটে, তাও ঠিক একই সময়ে, তাহলেই হয়েছে কেলেঙ্কারি! এর ঠিক পরে আর কোন ভাবেই জানার উপায় নেই কে ডান হাত থেকে বেরিয়েছে আর কে বামহাত থেকে! অথচ এরাই যদি নিউটনীয় কণা হতো তবে একই সময়ে ‘ক’ আর ‘খ’ একে অন্যের পথ কাটলেও ঠিক বলে দিতে পারতাম কোনটা কে!

আর একটি ছোট্ট উদাহরণ দিচ্ছি। দুটি বাক্স আছে আমার কাছে। আজ সকাল ১০-টার সময়, তার একটিতে দুটো নিউটনীয় কণা রাখলাম। দেখে নিলাম কোনটি বাক্সের কোনদিকে আছে। অন্যটিতে রাখলাম দুটো কোয়ান্টাম কণা। তাতেও দেখে নিলাম কোনটি কোন প্রান্তে আছে। নিউটন পদ্ধতিতে গণনার জন্য যা যা প্রয়োজনীয় তথ্য দরকার, তাদের ঠিক সকাল ১০-টার সময়কার মান লিখে রাখলাম। স্রডিনঙ্গার পদ্ধতিতে গণনার জন্য ঠিক সকাল দশটার সময়কার প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য লিখে রাখলাম। ধরে নিলাম দুটো ক্ষেত্রেই প্রযুক্ত বলের মান আমার জানা। পরের দিন সকাল ১০-টায় গিয়ে গতিপথ গণনার মাধ্যমে প্রথম বাক্সটিতে দেখে আমি ঠিক চিনে নিতে পারবো কোনটি কালকে কোনদিকে ছিল। অথচ দ্বিতীয় বাক্সের ক্ষেত্রে এই নির্ণয় একেবারেই অসম্ভব!

অতএব, দেখতেই পাচ্ছি, শুধু এই অনিশ্চয়তার কারণেই প্রতিদিনকার জগতের বা নিউটনীয় জগতের দুটি যমজ কণা এবং কোয়ান্টাম জগতের দুটি যমজ কণার মধ্যে রয়েছে মৌলিক পার্থক্য। একটি জগতে সবকিছু সম্পূর্ণ সঠিকভাবে চেনা বা জানার উপায় আছে। অথচ অন্যটিতে রয়েছে, অনিশ্চয়তা। ফলে একইরকম দেখতে কণাগুলি হয়ে উঠেছে অভেদ্য। কোয়ান্টাম জগতের যমজ কণাগুলোর (Identical particles) এই অভেদ্যতাই (Indishtinguisibility) ওই জগতের বিজ্ঞানকে করেছে অদ্বিতীয়। পদার্থবিদ্যার এই বিশেষ শাখাটি হয়ে উঠেছে অনন্য! 

অতঃপর, এই অভেদ্যতার হাত ধরেই জেনেছি কোয়ান্টাম জগতের দুই ধরনের সদৃশ কণার কথা। ফার্মিওন ও বোসন। যারা কিনা মৌলিক ভাবেই একে অন্যের থেকে আলাদা। তবে সেই গল্প অন্য আরেক দিনের।

——————————

~ কলমে এলেবেলে মেঘদীপা ~

এলেবেলের দলবল

► লেখা ভাল লাগলে অবশ্যই লাইক করুন, কমেন্ট করুন, আর সকলের সাথে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন। 

► এলেবেলেকে ফলো করুন। 

 

 

 

 

 

Leave a Reply

free hit counter
error

লেখা ভালো লেগে থাকলে দয়া করে শেয়ার করবেন।