পাহাড়ে উপল : প্লেট টেকটনিক- চতুর্থ পর্ব

প্রিয়জনদের শেয়ার করুন
761 বার লেখাটি পঠিত হয়েছে ~~~

সারাদিন টাইগার হিল, চা বাগান, বাতাসিয়া লুপ ও রক গার্ডেন ইত্যাদি ঘুরে বেশ খানিকটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে উপল। তাই সে সন্ধ্যেবেলা ম্যালের দিকটায় আর যাবেনা বলে ঠিক করলো, হোটেলের বারান্দায় বসেই মামার সাথে খোশ গল্প করবে। তাছাড়া সকালে মামাকে যে প্রশ্ন সে করেছিল তার উত্তর জানাটাও জরুরি। মামা স্নানঘর থেকে এখনো বেরোননি। মামার মন খুশি করার জন্য উপল নিজে থেকেই ফোন করে দু কাপ দার্জিলিং চা অর্ডার করে দিল। সে খুব ভালো করেই জানে স্নানঘর থেকে বেরিয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ দেখলেই নির্ঝর মামা বেজায় খুশি হবেন, আর সেই সুযোগে সকালের অসমাপ্ত গল্পটা শুনে নেওয়া যাবে। চা চলে এলো, পরমুহূর্তে নির্ঝর মামাও বেরিয়ে এলেন স্নানঘর থেকে। যেমনটা ভেবেছিলো উপল ঠিক তাই হল। চায়ের কাপ দেখেই মামার চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে উঠলো।

মামা বললেন— বাঃ তুই তো দেখছি আমার মনের কথাও পড়ে ফেলছিস আজকাল। 

বলতে বলতেই কাপ তুলে নিয়ে একটা চুমুক দিয়ে আঃ….. বলে একটা তৃপ্তিসূচক আওয়াজ করলেন। আমি ভাবছিলাম বেরিয়েই তোকে এক কাপ চা অর্ডার করতে বলবো। আচ্ছা যাই হোক ভালোই হয়েছে, আজকে আর ম্যালে গিয়ে কাজ নেই। চল বারান্দায় বসে বাকি গল্পটা বলি তোকে।

পৃথিবীর কোথাও এই গগনচুম্বী পর্বতমালা, তো কোথাও অতল গভীর মহাসাগর। কেন এই তারতম্য? পৃথিবীর আদিম অবস্থা থেকে বর্তমানের এই রূপ নিলোই বা কিভাবে? ভূমিই বা কেন কম্পিত হয়? কিছু নির্দিষ্ট স্থানে অগ্ন্যুৎপাতের কারণই বা কি?

ঠিক যেমনটা ভাবা তেমনই বিনা জিজ্ঞাসাতে গল্প শুরু হল বারান্দায় বসে।

মামা বললেন— এসব আজকের কথা নয়, অনেকদিন আগে থেকেই বিজ্ঞানীদের মনে এমন সব প্রশ্ন জেগে উঠতে থাকে যে পৃথিবীর কোথাও এই গগনচুম্বী পর্বতমালা, তো কোথাও অতল গভীর মহাসাগর। কেন এই তারতম্য? পৃথিবীর আদিম অবস্থা থেকে বর্তমানের এই রূপ নিলোই বা কিভাবে? ভূমিই বা কেন কম্পিত হয়? কিছু নির্দিষ্ট স্থানে অগ্ন্যুৎপাতের কারণই বা কি?

 

চিত্র: শুকিয়ে যাওয়া আপেল ও পৃথিবীপৃষ্ঠের তুলনা

প্রথমে ভাবা হতো যে পৃথিবী সৃষ্টির সময় খুব গরম এক বস্তু ছিল, যা সময়ের সাথে সাথে ক্রমশ ঠান্ডা হয়ে বর্তমান রূপ নিয়েছে। যেহেতু বেশির ভাগ বস্তু গরম অবস্থা থেকে ঠান্ডা হলে সংকুচিত হয়, তাই পৃথিবীরও সময়ের সাথে সাথে সংকোচন যুক্তি গ্রাহ্য বলে মনে করা হতো। ইউরোপে, ঊনবিংশ শতকে এক অষ্ট্রিয়ান ভূতত্ত্ববিদ এডওয়ার্ড সুইস (Edward Suess) একটি শুকোতে থাকা আপেলের ন্যায় পৃথিবীর ছবিকে বেশ জনপ্রিয় করে তোলেন। আপেল শুকোলে তা সংকুচিত হয়, যার ফলে তার ওপরের ত্বক খানিকটা কুঁচকে যায়।

ইউরোপে, ঊনবিংশ শতকে এক অষ্ট্রিয়ান ভূতত্ত্ববিদ এডওয়ার্ড সুইস (Edward Suess) একটি শুকোতে থাকা আপেলের ন্যায় পৃথিবীর ছবিকে বেশ জনপ্রিয় করে তোলেন।

উপল বলল— আচ্ছা, ঠিক যেমন গরম দুধের সর ঠান্ডা হলে কুঁচকে যায়?

নির্ঝর মামা বললেন— একদম ঠিক! তেমন ভাবেই ভাবা হতো যে পৃথিবীর ওপরের অংশ ঠান্ডা হওয়ার সময় সংকুচিত হয়েছে ও সংকোচনের ফলে হ্রাসপ্রাপ্ত অংশের স্থান সংকুলানের অভাবে পৃথিবীপৃষ্ঠ কুঁচকে যায়। এই ভাবেই পর্বতমালাগুলি তৈরি হয়। বিজ্ঞানী সুইস আরও ধারণা দেন যে পৃথিবীর অভ্যন্তর ক্রমে ঠান্ডা হয়ে সংকুচিত হওয়ার দরুন প্রায় সমতল পৃথিবীর উপরিভাগ কিছু কিছু স্থানে নিচের দিকে ধসে গিয়ে মহাসাগরগুলি সৃষ্টি করে। অন্যদিকে আমেরিকান বিজ্ঞানী জেমস দি ডানা (James Dwight Dana) আলাদা এক সংকোচন তত্ত্ব দেন। তার মতে পৃথিবীর তাপমাত্রা হ্রাসের সময় বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন খনিজ কঠিনে পরিণত হয়। প্রথম পর্যায়ে কোয়ার্জ ও ফেল্ডসপার এই খনিজ দুটির কঠিনীভবন ঘটে ও মহাদেশগুলি গঠন করে, পরবর্তী পর্যায়ে তাপমাত্রা হ্রাসের ফলে পৃথিবীর আরও সংকোচনের সময় অলিভিন ও পাইরক্সিনের মতো খনিজগুলি কঠিনে পরিণত হয়ে মহাসাগর তৈরি হয়। বিজ্ঞানী ডানার মতে আরও ঠান্ডা হলে কঠিন হয়ে যাওয়া উপরিভাগেরও আকার বিকৃতি ঘটে ও পার্বত্য অঞ্চল তৈরি হয়। যেহেতু এই তত্ত্ব মতে মহাসাগর ও মহাদেশ পৃথিবীর চিরকালীন বৈশিষ্ট্য তাই এটি স্থায়িত্ব তত্ত্ব (Permanence theory) নামে পরিচিত হয়।

উপল বলল— তাহলে তুমি যে এতদিন সব প্লেট টেকটনিকের কথা বললে, সেগুলো তবে ঠিক না ভুল?

নির্ঝর মামা বললেন— আসলে যেকোনো বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব সময়ের সাথে সাথে আরও নতুন নতুন তথ্যের সংযোগের ফলে পরিবর্তিত হয়ে পূর্ণাঙ্গ রূপ নেয়। প্লেট টেকটনিক তত্ত্বও আসার পূর্বে এমন কিছু তত্ত্ব ছিল। পরবর্তীতে আরও নানান প্রমান পাওয়া যায় যা এই পুরাতন তত্ত্বগুলোকে হয় ভুল প্রমান করে নয়তো তাকে আরো পরিবর্তিত রূপ দেয়। এখনও ভূতত্ত্ববিদগণ কিন্তু থেমে নেই, প্লেট টেকটনিক নিয়ে নানান খুঁটিনাটি গবেষণা হয়ে চলেছে এই তত্ত্বটিকে আরও নিখুঁত ও সর্বাঙ্গীন করে তোলার জন্য। 

চিত্র: বামদিকের ছবি-১৯৩০ সালের ১ নভেম্বর, বিজ্ঞানী ওয়েগনারের শেষ গ্রীনল্যাণ্ড অভিযানের শেষ ছবি (বাম দিকের ব্যক্তি) সঙ্গে তার সহ অভিযাত্রী রাস্মুস ভিল্লুমসেন (Rasmus Villumsen)। ডানদিকের ছবি- বিজ্ঞানী অ্যালফ্রেড ওয়েগনার।

উপল এবারে ব্যাপারটা বুঝলো। মামা তাকে কিভাবে ধাপে ধাপে এই প্লেট টেকটনিক তত্ত্বে বিজ্ঞানীরা পৌঁছলেন তারই গল্প বলছেন। 

বিজ্ঞানী অ্যালফ্রেড ওয়েগনার ছিলেন অভিযান পিপাসু এক বৈজ্ঞানিক, যিনি মাত্র ৫০ বছর বয়সে গ্রিনল্যান্ডের এক অভিযানে ১৯৩০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

নির্ঝর মামা আবার বলতে শুরু করলেন— যাই হোক, বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে তিনটি আলাদা আলাদা প্রমাণ সংকোচন তত্ত্বকে খন্ডন করে। প্রথমত সুইস আল্পস ও উত্তর মার্কিন অ্যাপ্লাসিয়ান পার্বত্য অঞ্চলের ফিল্ড ম্যাপিং থেকে দেখা যায় প্রায় শতাধিক মাইল স্তরীয় সংক্ষিপ্তকরণ ঘটেছে (Shortening of strata)। এই ঘটনার জন্য যে পরিমাণ পার্থিব সংকোচন (Terrestrial contraction) প্রয়োজন তা ব্যাখ্যাতীত। দ্বিতীয়ত আইসোস্ট্যাসি (Isostasy) তত্ত্বের উদ্ভব, যে তত্ত্ব মতে পাহাড় বা পর্বতগুলি তাদের আভ্যন্তরীন শক্তির প্রভাবে খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল না। বরং তারা ভরের ভারসাম্যে ভাসমান অবস্থায় অবস্থান করছিলো। কিন্তু সংকোচন তত্ত্ব অনুযায়ী মহাসাগর ও মহাদেশের অবস্থান পরিবর্তনশীল নয়। তৃতীয়ত, পদার্থবিদগণ ভূগর্ভের তেজষ্কৃয়তাজনিত তাপের (Radiogenic Heat) অনুসন্ধান দেন, যা সংকোচন তত্ত্বের মূল ভিত নাড়িয়ে দেয়। 

আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার মহাদেশীয় সীমানা জিগ্-স পাজেলের মতো জুড়ে যায়।

পরবর্তীকালে সংকোচন তত্ত্বের প্রতিস্থাপন হিসেবে যে তত্ত্বটি উঠে আসে তার নাম মহাদেশীয় চলন তত্ত্ব বা Continental drift theory। এই তত্ত্বের অন্যতম মূল প্রবক্তা হলেন অ্যালফ্রেড ওয়েগনার (Alfred Wegner)। তিনি ছিলেন অভিযান পিপাসু এক বৈজ্ঞানিক, যিনি মাত্র ৫০ বছর বয়সে গ্রিনল্যান্ডের এক অভিযানে ১৯৩০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার জীবৎকালে তার দেওয়া মহাদেশীয় চলন তত্ত্বটি বিজ্ঞানী মহলে খুব একটা গুরুত্ব পায়নি। কিন্তু এই তত্ত্বই বর্তমানের ভূতত্ত্ববিদ্যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্লেট টেকটনিক সূত্রের বীজ রোপণ করেছিল। বিজ্ঞানী ওয়েগনার লক্ষ্য করেন অনেক ভৌগোলিকগণই একটি বিষয়কে খুব ভালোভাবে চিহ্নিত করেছেন, যে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার মহাদেশীয় সীমানা জিগ্-স পাজেলের মতো জুড়ে যায়। তিনি আরও লক্ষ্য করেন ১৫৯৬ সাল নাগাদ বিজ্ঞানী আব্রাহাম অরটেলিয়াস (Abrahum Ortelius) বলেছিলেন একটা সময় আমেরিকা মহাদেশ ইউরোপ-এশিয়ার সাথে যুক্ত ছিল, ভূকম্পনসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে তা বিভক্ত হয়ে দূরে চলে যায়। এছাড়াও পরবর্তীকালে ফ্রান্সিস বেকন (Francis Bacon), স্কটিশ দার্শনিক থমাস ডিক (Thomas Dick) এবং ফরাসি বিজ্ঞানী বুফোঁ (Comte De Buffon)-এর লেখাতেও মহাদেশগুলির একসাথে অবস্থান করা ও পরবর্তীকালে আলাদা হয়ে যাওয়ার নানান ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এইসব তো ছিলই, বিজ্ঞানী ওয়েগনার তার পিএইচডি শেষ করার ঠিক পরেই একটি গবেষণা পত্র পড়ার সময় জানতে পারেন প্যালিওজোয়িক (Palaeozoic) সময়কালের দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার জীবাশ্মের যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।

 

চিত্র: বিভিন্ন মহাদেশে কিছু একই ধরনের জীবাশ্মের উপস্থিতি

 

ওই গবেষণাপত্রে এই দুই মহাদেশের মধ্যে একটি স্থলজ সেতু থাকতেও পারে বলে ধারণা পোষণ করা হয়। কিন্তু বিজ্ঞানী ওয়েগনারের কাছে স্থলজ সেতু তত্ত্বটি খুব যুক্তিগ্রাহ্য বলে মনে হয়নি। তাই তিনি মহাদেশীয় চলন সম্পর্কিত সমস্তরকম গবেষণাপত্র ও পুরোনো লেখা পড়াশোনা করতে শুরু করেন। তিনি জানতে পারেন শুধুমাত্র দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকা নয়, নিউফাউন্ডল্যান্ড-ইংল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ডের অংশ-স্ক্যান্ডেনেভিয়ার সীমানাও একে ওপরের সাথে মিলে যায়। জীবাশ্ম বিষয়ক আলোচনা থেকে জানা যায় দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, আন্টার্কটিকা এবং ভারতে প্যালিওজোয়িক ও মেসোজোয়িক জীবাশ্মগত প্রচুর মিল রয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদ গ্লসোপটেরিস (Glossopteris) এবং শুকরের মতো দেখতে সরীসৃপ ল্যাস্ট্রোসাউরাস (Lystrosaurus)। কিন্তু বিভিন্ন মহাদেশের আধুনিক উদ্ভিদ ও প্রাণীদের মধ্যে এই ধরনের মিল চোখে পড়েনা। কারণ বিভিন্ন ভৌগোলিক ও মহাসাগরের বাধা অতিক্রম করে অন্য মহাদেশে ছড়িয়ে পড়া সম্ভবপর হয়নি। যা থেকে বিজ্ঞানী ওয়েগনার একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে অতীতে এই স্থলভাগগুলি একে অপরের সাথে যুক্ত ছিল। এমনকি আন্টার্কটিকায় ক্রান্তীয় অঞ্চলের ফার্ন উদ্ভিদের উপস্থিতি এই ধারণাকে আরও জোরালো করে তোলে। যদি চিরকাল এই মহাদেশ মেরু প্রদেশেই অবস্থান করতো তাহলে এমন জীবাশ্ম পাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল।

 

চিত্র: ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদ গ্লসোপটেরিস (Glossopteris) এবং শুকরের মতো দেখতে সরীসৃপ ল্যাস্ট্রোসাউরাস (Lystrosaurus)-এর জীবাশ্ম।

 

দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকায় প্রায় একই ধরনের শিলাসমষ্টিও (Rockunits) পাওয়া যায়। এই সমস্ত তথ্যপ্রমাণ একত্রিত করে গবেষক অ্যালফ্রেড ওয়েগনার একটি তত্ত্ব দাঁড় করান। তিনি বলেন অতীতে একটা সময় সমস্ত মহাদেশ একত্রিতভাবে একজায়গায় অবস্থান করতো, মহাদেশীয় সংঘটন হিসেবে যার নাম প্যাঞ্জিয়া (Pangea)। পরবর্তীকালে তা দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। যার প্রথম অংশে ছিল উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়া এবং দ্বিতীয় অংশে ছিল আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ভারত, মাদাগাস্কার, অস্ট্রেলিয়া, আন্টার্কটিকা। আরও সময়ের ব্যবধানে তারাও আলাদা আলাদা হয়েছে একে অপরের থেকে। আর ভারতবর্ষ কিভাবে এশিয়ার সাথে এসে মিশে হিমালয় তৈরি হল তা আজকে সকালে গাড়িতে যেতে যেতে বলেছি (আগের পর্বটি পড়া না হয়ে থাকলে লেখার শেষে দেওয়া লিঙ্ক-এ ক্লিক করে পড়তে পারেন)। অতএব স্থলজ সেতু তাদের মধ্যে ছিল না বরং মহাদেশগুলিই সময়ের সাথে সাথে চলমান। তাঁর এই যাবতীয় গবেষণা তিনি তুলে ধরেছিলেন Die Entstehung der Kontinente und Ozeane (যার ইংরেজি সংস্করণ হল The Origin of Continents and Oceans) নামক ৯৪ পাতার বইতে। কিন্তু এই তত্ত্বেও মহাদেশের চলনের কারণ সঠিক ভাবে ব্যাখ্যা করা ছিল না। যার উত্তর খুঁজতে গিয়েই বর্তমানের প্লেট টেকটনিক তত্ত্বের অবতারণা করা হয়। সেই গল্প না হয় অন্যদিন বলবো। 

দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, আন্টার্কটিকা এবং ভারতে প্যালিওজোয়িক ও মেসোজোয়িক জীবাশ্মগত প্রচুর মিল রয়েছে।

আজকে উপল প্রায় গোটা গল্পটাই একনাগাড়ে মন দিয়ে নিস্তব্ধ ভাবে শুনেছে, মামাও একনাগাড়ে বলে গেছেন।

চিত্র: মহাদেশীয় চলন তত্ত্ব অনুযায়ী তিনটি পর্যায়ে মহাদেশীয় গঠন। চিত্রটি বিজ্ঞানী ওয়েগনারের Die Entstehung der Kontinente und Ozeane বইয়ের পাতা থেকে নেওয়া।

তিনি বললেন— চল অনেক রাত্রি হয়ে গেল, আর খিদেও পেয়েছে খুব।  আজকে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়তে হবে। কালকে পায়ে হেঁটে বেড়াবো গোটা দার্জিলিং শহর, যেকোনো জায়গা পায়ে হেঁটে না ঘুরলে ঠিক চেনা যায় না। 

উপল এতক্ষণ গল্পে মজে পেটের খিদেটা টের পায়নি, মামার কথায় সেও খিদেটা অনুভব করলো।  তাই বিনা বাক্য ব্যয়ে উঠে হোটেল ঘরে পরে থাকা মেনু কার্ডটা আনতে চলে গেল। নির্ঝর মামা চেয়ার থেকে উঠে বারান্দার রেলিংয়ের কাছে গিয়ে দেখতে লাগলেন পাহাড়ি শহরের রাত।    

আগের তিনটি পর্ব না পড়ে থাকলে নিচে দেওয়া লিঙ্ক-এ ক্লিক করুন-

প্রথম পর্ব: https://www.elebele.org/2021/02/plate-tectonics-1.html

দ্বিতীয় পর্ব: https://www.elebele.org/2021/03/blog-post_27.html

তৃতীয় পর্ব: https://www.elebele.org/2021/04/blog-post_16.html

—————————–

~ কলমে এলেবেলে উদ্দালক ~

এলেবেলের দলবল

► লেখা ভাল লাগলে অবশ্যই লাইক করুন, কমেন্ট করুন, আর সকলের সাথে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন। 

► এলেবেলেকে ফলো করুন। 

 

 

 

 

 
 

One thought on “পাহাড়ে উপল : প্লেট টেকটনিক- চতুর্থ পর্ব

  • May 29, 2021 at 3:23 pm
    Permalink

    Here the writing skill of the author is extraordinary, in one word. The illustrations used in the article are perfectly befitting with the concepts elaborated. Really this write-up will come in great benefit to the students as well as the teachers. After assembling all the links containing different parts of the brilliant explanation on plate-tectonics, one can get an all-encompassive/comprehensive idea on the very topic. We are eagerly waiting for the next slice.

Leave a Reply

free hit counter
error

লেখা ভালো লেগে থাকলে দয়া করে শেয়ার করবেন।