জোয়ার তরঙ্গ শক্তি (প্রথম পর্ব)

প্রিয়জনদের শেয়ার করুন
241 বার লেখাটি পঠিত হয়েছে ~~~

  

 

বৈকালিক আড্ডায় খুড়োর প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে সবার সমবেত আব্দার “আজকে কিন্তু জোয়ার তরঙ্গ শক্তির ব্যাপারটা তোমাকে বুঝিয়ে বলতে হবে।” খুড়ো মুচকি হেসে বলেন “কিন্তু কি বলি বলতো? এর সম্বন্ধে তো এখনো অনেক অনুসন্ধান চলছে— এখনো তো কোনও ব্রেক থ্রু বা বিরাট সাফল্য আসেনি।” অর্ণব বলে “হেয়ালি না করে বলতো তুমি কি বলতে চাও?” “দ্যাখ আসল কথাটা হল যে এই প্রযুক্তি এখনো একেবারে শৈশব পর্যায়েই আছে। আমাদের দেশের কথা ছেড়ে দে— অনেক তাবড় তাবড় দেশেও জোয়ার তরঙ্গ শক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ বিশেষ করে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে এখনো শুরু হয়নি। কাজেই বিশদ ভাবে হয়ত কিছু বলতে পারবো না— তবে তোদের কৌতূহল চরিতার্থ করতে পারব আশাকরি” বলেন খুড়ো।

দ্যাখ আসল কথাটা হল যে এই প্রযুক্তি এখনো একেবারে শৈশব পর্যায়েই আছে। আমাদের দেশের কথা ছেড়ে দে— অনেক তাবড় তাবড় দেশেও জোয়ার তরঙ্গ শক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ বিশেষ করে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে এখনো শুরু হয়নি।

“আমরা যাতে আমাদের পরিবেশকে বাঁচিয়ে রাখতে পারি সেই লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত উদ্ভাবকরা পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদনের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অপ্রচলিত শক্তির খোঁজে সর্বশেষতম সংযোজন হচ্ছে দূষণ মুক্ত টাইডাল এনার্জি বা সমুদ্রের জোয়ার শক্তি এবং ওয়েভ এনার্জি বা তরঙ্গ থেকে শক্তি। এই জোয়ার তরঙ্গ শক্তি সত্যিই একটি পুনর্নবীকরণযোগ্য উৎস, কারণ তা  সর্বদাই প্রকৃতির মধ্যে রয়েছে এবং তার কোনও ক্ষয় নেই। জোয়ার তরঙ্গ শক্তি পরিবেশ বান্ধব কারণ, এর থেকে পারমাণবিক শক্তি, জীবাশ্ম শক্তি বা শক্তির অন্যান্য প্রচলিত  উৎসগুলির মত পরিবেশে তেজষ্ক্রিয়তা, কার্বন বা অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাসের মত কিছুর নির্গমন হয় না। বিশ্বজুড়ে পরিবেশ দূষণকারী শক্তির উৎসগুলি প্রতিস্থাপনের জন্য দূষণমুক্ত গ্রীন এনার্জি বা ‘সবুজ শক্তি’ তৈরি করার জন্য ক্রমবর্ধমান যে প্রয়াস চলছে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর প্রচেষ্টায় জোয়ার তরঙ্গ শক্তি সত্যিই একটি সম্ভাব্য পরিবেশ বান্ধব শক্তির উৎস।” 

সুবিমল প্রশ্ন করে “এই শক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ করে কি কোনও বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনা করা হয়েছে?” “নিশ্চয়ই। প্রথম স্থাপিত কেন্দ্রটি ফ্রান্সের লা রান্সে অবস্থিত। বৃহত্তম কেন্দ্রটি হ’ল দক্ষিণ কোরিয়ার সিহওয়া লেক টাইডাল পাওয়ার স্টেশন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনও এই জাতীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নেই— কেবলমাত্র কয়েকটি স্থান আছে যেখানে জোয়ার উদ্ভুত শক্তি যুক্তিসঙ্গত মূল্যে উৎপাদিত হবার সম্ভাবনা আছে। চীন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, কানাডা এবং রাশিয়াতেও এই ধরণের শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা আছে” খুড়োর উত্তর।

“এই বিষয়ে গভীরে যাবার আগে প্রথমে আমরা জোয়ার শক্তি সম্পর্কে কিছু প্রাথমিক তথ্য আলোচনা করব। জোয়ার শক্তির সৃষ্টি কি করে হয় বলতো?” খুড়োর প্রশ্ন। সুবিমল বলে “হ্যাঁ, আমরা দেখেছি গঙ্গায় পূর্ণিমা বা অমাবস্যায় বান আসে।” খুড়ো বলেন “ঠিকই বলেছিস, সাধারণত বর্ষাকালে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার ভরা কোটালের সময় চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণে জোয়ারের জল নদীর খাড়িপথ ও মোহনা দিয়ে নদী প্রবাহের বিপরীত দিকে অগ্রসর হয়। ঢেউ, জলোচ্ছ্বাস সহ নদীর এই সগর্জন বিপরীত প্রবাহকে বান বা বান ডাকা বলে। সূর্য ও চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ বলের মিলিত প্রভাব সমুদ্র পৃষ্ঠের উপরিভাগের জলতলকে প্রভাবিত করে সমুদ্রের জোয়ারের সৃষ্টি করে। জোয়ার সৃষ্টির মূল অবদানগুলির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পৃথিবী ও চাঁদের ঘূর্ণন ও পৃথিবীর উপর চাঁদ ও সূর্যের মাধ্যাকর্ষণ টান। যদিও সূর্য এবং চাঁদ উভয়েই পৃথিবীর উপর মহাকর্ষ বল প্রয়োগ করে, চাঁদের টান আরও শক্তিশালী কারণ চাঁদ সূর্যের চেয়ে পৃথিবীর অনেক কাছে। তাই সূর্য যে জোয়ারের জলস্ফীতি সৃষ্টি করে তা চাঁদের তুলনায় অনেকাংশে নগন্য। তবে সূর্য পৃথিবী থেকে চাঁদের তুলনায় প্রায় ৩৯০ গুণ বেশি দূরে অবস্থিত হলেও এর উচ্চ ভর জোয়ারকে প্রভাবিত করে। চাঁদ বা সূর্যের মহাকর্ষীয় টানের সম্মিলিত শক্তি এবং দিক পৃথিবীর তুলনায় তাদের আপেক্ষিক অবস্থানের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তনজনিত কারনে চন্দ্র ও সূর্যের  পারস্পরিক আকর্ষণের সম্মিলিত ফল জোয়ারের সৃষ্টির মূল কারণ। আচ্ছা ইদানীং কালে ঘটে যাওয়া কোনও ঘটনার উল্লেখ করতে পারবি যেখানে এই জোয়ার আমাদের মুস্কিল আসান করেছিল।” 

হ্যাঁ মনে পড়েছে  মিশরের স্যুয়েজ ক্যানেলে এভারগিভেন নামের একটা বিরাট কন্টেনার বোঝাই মালবাহী জাহাজ চড়ায় আটকে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হল পূর্ণিমার ভরা কোটাল

শুভাশিস বলে “হ্যাঁ মনে পড়েছে  মিশরের স্যুয়েজ ক্যানেলে এভারগিভেন নামের একটা বিরাট কন্টেনার বোঝাই মালবাহী জাহাজ চড়ায় আটকে পড়েছিল। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ক্রেনের সাহায্য নিয়ে, অনেক লোক লস্কর, মাটি খোঁড়ার যন্ত্র দিয়ে ড্রেজিং ও খোঁড়াখুঁড়ি করেও কোনও সুরাহা হয়নি। এদিকে স্যুয়েজ ক্যানেল তো প্রায় অবরুদ্ধ— দুদিকে সার দিয়ে জাহাজ দাঁড়িয়ে পড়েছে। শেষ পর্যন্ত ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হল পূর্ণিমার ভরা কোটাল— আর জোয়ারের জলোচ্ছ্বাসের জোরে জাহাজও জলে ভাসল।” খুড়ো বলল “তুই যে এই ঘটনাটা মনে রেখে এতো সুন্দর ভাবে উপস্থাপনা করলি তার জন্য তোর প্রশংসা না করে পারছিনা। তোর সম্মানে আজকে চায়ের সঙ্গে ডবল ডিমের ওমলেট হয়ে যাক। শুভাশিস তুই মদনের চায়ের দোকানে গিয়ে বলে আয় তো!”

“এবারে জোয়ার সৃষ্টির পিছনে যে বিজ্ঞান কাজ করছে সে ব্যাপারে একটু বলি। পৃথিবীর যে দিকে চাঁদ থাকে সেই পাশে চাঁদ দ্বারা পৃথিবীপৃষ্ঠের সমুদ্রের জল বেশি জোরে আকৃষ্ট হয়, এ কারণে চাঁদের দিকে অবস্থিত জল বেশি ফুলে ওঠে এবং চারদিক হতে জলরাশি এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এইরূপে সৃষ্ট জোয়ারকে উচ্চ-উচ্চ জোয়ার (হাই-হাই টাইড) বা মুখ্য জোয়ার বলা হয়। একই সময়ে পৃথিবীর যে অংশ চাঁদের বিপরীত দিকে থাকে, সেদিকের সমুদ্রের পৃষ্ঠের জলের উপর চাঁদের আকর্ষণ শক্তি কমে যায় এবং পৃথিবীর ঘূর্ণন জনিত কেন্দ্রাতিগ শক্তি এই দুইয়ের প্রভাবে চারদিক হতে জলরাশি এসে ওই স্থানে জোয়ারের সৃষ্টি করে যার ফলে সেখানকার জলও ফুলে ওঠে। এভাবে চন্দ্রের বিপরীত দিকে যে জোয়ার সৃষ্টি হয় তাকে নিম্ন-উচ্চ জোয়ার (লো-হাই টাইড) বা গৌণ জোয়ার বলে। এই দুই উচ্চ জোয়ারের মধ্যে হ’ল নিম্ন জলের স্তর বা নিম্ন জোয়ারের অঞ্চল।” খুড়োর বলা শেষ হলে সুবিমলের প্রশ্ন “তাহলে ভাঁটা কাকে বলে?” “উচ্চ জোয়ার থেকে নিম্ন জোয়ারের দিকে জলের প্রবাহকে ভাঁটা বলে।পৃথিবী ও চাঁদের ঘূর্ণনের কারণে তাদের আপেক্ষিক অবস্থার পরিবর্তনের জন্য একসময় এই ফুলে ওঠা জল নেমে গিয়ে ভাঁটার টানের সৃষ্টি করে। পৃথিবী এক দিনে যে সময়ের মধ্যে নিজ অক্ষের চারদিকে একবার আবর্তন করে সে সময়ের মধ্যে পৃথিবীর যে কোনও অংশ একবার চাঁদের দিকে থাকে এবং একবার চাঁদের বিপরীত দিকে থাকে। এই কারণে পৃথিবীর যে কোনও স্থানে দু’বার জোয়ার এবং দু’বার ভাঁটা হয়” খুড়োর সংযোজন। 

 

অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে, চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত বলের প্রবল আকর্ষণে যে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে  ভরা কোটাল বা ভরা জোয়ার (স্প্রিং টাইড) বলে। কৃষ্ণপক্ষ ও শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীর সঙ্গে পরস্পর সমকোণে থাকলে চাঁদের আকর্ষণে যেদিকে জলরাশি ফুলে ওঠে ঠিক তার সমকোণে সূর্যের আকর্ষণেও সমুদ্রের জল ফুলে ওঠে। চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ বল ভিন্ন দিকে কাজ করায় সমুদ্রপৃষ্ঠের জলরাশি বিশেষ ফুলে উঠতে পারে না, এইভাবে সৃষ্ট জোয়ারকে মরা কোটাল বা মরা জোয়ার (নীপ টাইড) বলে। 

“তোরা সবাই জানিস যে পৃথিবীর একটি দিন বা সৌর দিবস এমন সময় যা সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজের কক্ষ পথ ধরে পরিক্রমার সময় নিজের অক্ষের চারপাশে একবার ঘুরে আসতে যে সময় লাগে অর্থাৎ ২৪ ঘন্টা। সেই সঙ্গে এটাও জেনে রাখ যে চাঁদের সাথে একই অবস্থানে পৌঁছতে পৃথিবীর যে সময় লাগে তা গড়ে, ২৪ ঘন্টা ৫০ মিনিট, যা একটি চন্দ্র দিবস হিসাবে পরিচিত। সৌর দিনের চেয়ে চন্দ্র দিবস দীর্ঘ হওয়ার কারণটি হ’ল চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে একই দিকে ঘুরছে যেভাবে পৃথিবী তার অক্ষের চারপাশে ঘোরে, সুতরাং পৃথিবী গড়পড়তাভাবে চাঁদের অবস্থানের সঙ্গে তালমিল রাখতে আরও ৫০ মিনিট বেশি সময় নেয়। যেহেতু চাঁদের আকর্ষণজনিত জোয়ার শক্তি সূর্যের দ্বিগুণের চেয়ে বেশি শক্তিশালী তাই জোয়ারগুলি সৌর দিবস নয়, চন্দ্র দিবস অনুসরণ করে চলে। তাই আমাদের দিনে  দু’বার উচ্চ ও নিম্ন জোয়ার হয়” বলে খুড়ো থামলেন। অর্ণবের প্রশ্ন “তোমার কথা মত তো তাহলে জোয়ার ভাঁটা অঙ্কের নিয়ম মেনে একটা নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে হওয়া উচিত।” “একদমই তাই। কোনো নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট একটি সময়ে মুখ্য জোয়ার হওয়ার ১২ ঘণ্টা ২৫ মিনিট পরে সেখানে গৌণ জোয়ার হয় এবং মুখ্য জোয়ারের ২৪ ঘণ্টা ৫০ মিনিট পর সেখানে আবার মুখ্য জোয়ার হয়। তাই প্রত্যেক স্থানে জোয়ারের প্রায় ৬ ঘণ্টা সাড়ে ১২ মিনিট পরে ভাঁটা হয়। মোটামুটি এটাই নিয়ম” বলেন খুড়ো।

“এখানে একটা কথা জেনে রাখ, যেকোনও স্থানে জোয়ার শক্তি উৎপাদন কতটা সম্ভাবনাময় তা জানতে সবার আগে জানা প্রয়োজন সেখানকার টাইডাল রেঞ্জ বা জোয়ার পরিসীমা কতটা। উচ্চ এবং নিম্ন জোয়ারের মধ্যে উল্লম্ব পার্থক্যকে টাইডাল রেঞ্জ বা জোয়ার পরিসীমা বলে। পৃথিবী ব্যাপী অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে টাইডাল রেঞ্জ বা জোয়ার পরিসীমা মোটামুটি সাড়ে চার মিটার থেকে সাড়ে বারো মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে কমপক্ষে তা সাত মিটার না হলে টারবাইনের সফল চালনার মাধ্যমে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব নয়। যদি সম্ভাব্য জোয়ার পরিসীমা ১২ ফুট হয় তবে প্রথম ঘন্টায় জোয়ারের জল স্ফীতি হবে ১ ফুট, দ্বিতীয় ঘন্টায় তা হবে ২ ফুট, তৃতীয় এবং চতুর্থ ঘন্টায় ৩ ফুট, পঞ্চম ঘন্টায় ২ ফুট এবং ষষ্ঠ ঘন্টায় ১ ফুট। এই হল মোটামুটি হিসেব” বলেন খুড়ো।

সমুদ্রতল সবত্র সমান নয় বলে জোয়ারগুলি সমস্ত জায়গায় একই ধরণ বা প্যাটার্ন অনুসরণ করে না। একটি মসৃণ, প্রশস্ত সৈকত বরাবর, জল একটি বৃহৎ অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে যেতে পারে— সেখানে জোয়ারের পরিসীমা কয়েক সেন্টিমিটার হতে পারে। একটি সীমাবদ্ধ অঞ্চলে, যেমন একটি সরু, পাথুরে খাঁড়ি বা উপসাগরীয় অঞ্চলে জোয়ারের পরিসীমা বেশ কয়েক মিটার হতে পারে। ভূমধ্যসাগরীয় বা বাল্টিকের মতো ঘেরা সমুদ্রের মধ্যে সবচেয়ে কম উঁচু জোয়ার লক্ষ্য করা যায় এবং জলের তল বড় জোর ৩০ সেন্টিমিটার মত বৃদ্ধি পায়। সব চেয়ে বেশি জোয়ারের পরিসীমা কানাডার উপসাগর অঞ্চলে লক্ষ্য করা যায়। সেখানে জোয়ার প্রায় ১৭ মিটার পর্যন্ত হতে পারে।

স্থলভাগ থেকে প্রবাহিত শক্তিশালী বায়ু ভাঁটার প্রভাব আরও বাড়িয়ে উপকূলরেখা থেকে জল সরিয়ে নিতে পারে। অপরদিকে উপকূলীয় শক্তিশালী বাতাসের ফলে জল উপকূলের দিকে ধাবিত হয় এবং  ভাঁটার জলস্তরকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি করে তোলে। উচ্চচাপজনিত আবহাওয়া ভাঁটার অবস্থাকে দীর্ঘায়িত করতে পারে। অপরপক্ষে নিম্নচাপজনিত আবহাওয়া পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক বেশি জোরালো জোয়ার সৃষ্টি করতে পারে। খুড়ো বলেন “আমরা দেখেছি যে জোয়ারের উচ্চতার পূর্বাভাস যদিও বা নির্ভুলভাবে দেওয়া যায় তবে বিভিন্ন আবহাওয়াজনিত কারণও সমুদ্রের স্তরকে প্রভাবিত করে এবং প্রত্যাশার চেয়ে নিম্ন ও উচ্চতর জোয়ার উভয়ই হতে পারে। যদি ঝড় হয় তবে সমুদ্রের জলের স্তর প্রায়শঃই বৃদ্ধি পায়। এটিকে ঝড়ের জোয়ার বলা হয়; এই ঝড় এবং সাধারণ জোয়ারের সম্মিলিত প্রভাব মারাত্মক হতে পারে। এবার ঘটনাক্রমে যদি এই জোয়ার সাধারণ জোয়ার না হয়ে পূর্ণিমা বা অমাবস্যার ভরা কোটাল হয়, তবে এই জলোচ্ছাসের তীব্রতা ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করতে পারে।” এই কথা বলে  খুড়ো এবারের ভয়ঙ্কর সাইক্লোন যশের প্রসঙ্গ টেনে আনলেন। সুবিমল বলল “আমরা তো এবারে সেটাই দেখলাম। যশ আর পূর্ণিমা মিলে হাত ধরাধরি করে যে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণি নাচটা নাচল তা নটরাজের প্রলয় নাচনকেও হার মানায়।” “দ্যাখ এই ঘটনাটা নিয়ে ঠাট্টা তামাশা করিসনা। এই প্রলয়ের জেরে আমাদের দেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলে কত লোককে বাড়ী ছাড়তে হয়েছে, বাঁধ ভেঙ্গে কত লোকে গৃহহীন হয়ছে, কত সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে তার খবর রাখিস?” বিরক্ত হয়ে বললেন খুড়ো। 

এই প্রলয়ের জেরে আমাদের দেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলে কত লোককে বাড়ী ছাড়তে হয়েছে, বাঁধ ভেঙ্গে কত লোকে গৃহহীন হয়ছে, কত সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে তার খবর রাখিস? 

 

এই আলোচনার মাঝেই মদনের দোকান থেকে চা ওমলেট এসে হাজির। অগত্যা আলোচনায় সাময়িক বিরতি।

(চলবে……..)

———————————-

~ কলমে এলেবেলের অতিথি দেবাশীষ দাশগুপ্ত ~

দেবাশীষ একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রযুক্তিবিদ

 

 

 

► লেখা ভাল লাগলে অবশ্যই লাইক করুন, কমেন্ট করুন, আর সকলের সাথে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন। 

► এলেবেলেকে ফলো করুন। 

 

 

 

One thought on “জোয়ার তরঙ্গ শক্তি (প্রথম পর্ব)

Leave a Reply

free hit counter
error

লেখা ভালো লেগে থাকলে দয়া করে শেয়ার করবেন।