ডুঙ্কেল মেটিরি: এক অসমাপ্ত গল্প (পব-১)

প্রিয়জনদের শেয়ার করুন
948 বার লেখাটি পঠিত হয়েছে ~~~

 

 

 

আঁকাবাকা পাহাড়ি পথ বেয়ে এগিয়ে চলেছে ছোট্ট গাড়িটা। ওপর থেকে ড্রোন ক্যামেরার শট। গাড়িটা থামবে একটা শুনশান বিশালকায় কাঠের বাংলোর সামনে। গাড়ি থেকে নামবে হয়ত একজন মহিলা, বা ফ্যামিলি, আর অবশ্যই এক বা একাধিক বাচ্চা। ফাঁকা বাড়িতে তারা যখন নিজের নিজের কাজে মগ্ন, ঠিক তখন কেউ হয়ত টের পাবে প্রথম। মনে হবে চেয়ারটায় কেউ বসল, বা পেছনে কেউ হাত টেনে ধরল, কিন্তু তাকে দেখা যাবে না। মনে হবে সে আছে, কিন্তু ধরা যাবেনা। সিনেমার ইন্টারভ্যালের আগেই অনুমান করে নেওয়া হবে, বাড়িতে কোনও প্যারানর্মাল অ্যাক্টিভিটি বা অশরীরীর উপস্থিতি আছে। যদিও আমরা তখনো জানিনা আসল গল্পটা কি।** 

 

 

কখনো ভেবে দেখেছেন, এরকম অদৃশ্য উপস্থিতি যদি ব্রহ্মাণ্ডে ধরা পড়ে, কেমন হবে? 

 

 

আমাদের আজকের গল্পের শুরুর সময়টা গত শতকের তিরিশের দশক। দৃশ্যমান নক্ষত্র গ্রহ উপগ্রহ নিহারীকা, বা তাদের নিয়ে গড়ে ওঠা গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ সম্পর্কে জ্যোতির্পদার্থবিদ্যা থেকে আমরা সম্যক ধারণা পেয়ে গেছি ততদিনে। আমরা নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রের সাহায্য নিয়েই হিসেব করে বলে দিতে পেরেছি, কে কার মহাকর্ষের টানে আটকা পড়ে পাক খেয়ে যাচ্ছে, আর কেই বা মহাকর্ষের গেরো থেকে ফস্কে ছুট লাগাতে পারছে। এমনকি আমরা জানতে পেরে গেছি গ্যালাক্সি ক্লাস্টারের সম্বন্ধেও। গ্যালাক্সি ক্লাস্টার অর্থাৎ মহাকর্ষে বাধা পড়ে থাকা একাঝাঁক ছায়াপথ (গ্যালাক্সি)।

 

 

তখন স্যুইস জ্যোতির্বিদ্ ফ্রিৎজ্ জ্যুইকি প্রায় ৩২৩ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে থাকা ‘কোমা ক্লাস্টার’ নামক একটা গ্যালাক্সি ক্লাস্টারে থাকা ছায়াপথগুলির গড় গতিবেগ মাপতে ব্যস্ত। এই ক্লাস্টারটিতে ১০০০-এর বেশি ছায়াপথ আছে, যাদের সাথে তিরিশের দশকের আগেই আলাপ হয়ে গেছিল জ্যোতির্বিদ্ মহলের। কিন্তু ফ্রিৎজ্-এর পর্যবেক্ষণ আর অঙ্কের হিসেবে একটা বড়সড় গড়মিল দেখা গেল। ক্লাস্টারের মধ্যেকার ছায়াপথগুলোর গতিবেগ পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেল, এইরকম উচ্চ-গতিশক্তিবিশিষ্ট ছায়াপথগুলোকে ক্লাস্টারের মধ্যে অভিকর্ষ বলে বেঁধে রাখতে যে বিশাল পরিমান ভরের দরকার, তা দৃশ্যমান বস্তুর ভরের থেকে অনেক অনেক বেশি। ফ্রিৎজ্ প্রস্তাবনা দিলেন যে, ক্লাস্টারের মধ্যে দৃশ্যমান ছায়াপথ, গ্যাস প্রভৃতি ছাড়াও অস্তিত্ব আছে এমন কিছু অদৃশ্য অথচ ভারী বস্তুর, যার উপস্থিতির কারণে ছায়াপথগুলো ক্লাস্টারের মায়া কাটিয়ে পালাতে পারছেনা। ১৯৩৩ সালে একটি জার্মান ভাষায় লেখা জার্নালে সর্বপ্রথম তিনি উল্লেখ করলেন ‘ডুঙ্কেল মেটিরি’ (Duncle Materi) -র উপস্থিতির কথা; যা অনুবাদ করলে দাঁড়ায় ‘ডার্ক ম্যাটার’ বা ‘তমোপদার্থ’। তবে নামে ‘ডার্ক’ থাকার অর্থ কিন্তু এই নয় যে এই বস্তুটি কৃষ্ণকায়। কোনও সত্যের কাছাকাছি পৌঁছতে না পারলে যেমন আমাদের আঁধারে থেকে যেতে হয়, তেমনই এই ডার্ক ম্যাটার নামধারী বস্তুর নামে থাকা ‘ডার্ক’নেসটি অজানার। কিন্তু জার্নালটি জার্মান ভাষায় হওয়ায় ততটা জনপ্রিয় হল না, আর এই কাজও গুরুত্ব পেল না সেভাবে। ডার্ক ম্যাটারের গল্পে প্রায় চল্লিশ বছরের ইন্টারভ্যাল হয়ে গেল। 

 

 

সত্তরের দশকে চলে এলাম আমরা। আমেরিকান জ্যোতির্বিদ ভেরা রুবিন বিভিন্ন ছায়াপথের পরিক্রমণ গতি মাপতে নিয়ে আরও একবার অদৃশ্য বস্তুর অস্তিত্ব খুঁজে পেলেন। এবার সেই গল্পেই আসব, তবে তার আগে আমরা জেনে নেব মহাবিশ্বে গ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথদের ঘুরপাক খাওয়ার শর্তাবলি। 

 

 

ছোটবেলায় যখন নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র দুলে দুলে মুখস্থ করতাম, তখনই আমরা জেনে গেছি, কোনও বস্তুর ভর যত বেশি হবে, সে অন্য বস্তুকে তত জোরে নিজের দিকে টানার চেষ্টা করবে— মহাকর্ষ বল ভরের সমানুপাতিক। অন্যদিকে কোনও বস্তুর থেকে যত দূরে যাব, তার ওপরে মহাকর্ষের প্রভাব তত কমবে— মহাকর্ষ বল দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক। এবার আসি মহাবিশ্বে ঘুরপাক খাওয়া গ্রহ, বা নক্ষত্র বা ছায়াপথের গতিবেগের কথায়। মহাবিশ্বে কোনও বস্তুরই নিজের মর্জিমত যেমন খুশি গতিবেগ নিয়ে চলাফেরা করার অনুমতি নেই, তাদের ঘুরতে হয় মহাকর্ষের সাথে ভারসাম্য রেখে। এই ভারসাম্যের দড়ি টানাটানিতে একটু এদিক ওদিক হলেই হয় সে মহাকর্ষের টানে হুমড়ি খেয়ে পড়বে, নয়ত মহাকর্ষের মায়া কাটিয়ে হুশ করে পালাবে। ফলে কোনও বস্তু যদি অন্য কোনও ভরকে প্রদক্ষিণ করে, তাহলে সেই ভরের পরিমান থেকে পরিক্রমণরত বস্তুর গতিবেগ খুব সহজেই বলে দেওয়া সম্ভব, বা উল্টোটা। 

 

 

ছায়াপথের ঘূর্ণনের গতিবেগ যেখানে দূরত্ব বাড়ার সাথে সাথে কমা উচিৎ, সেখানে তা প্রায় ধ্রুবক থাকছে, বা অনেকাংশে বেড়েই চলেছে

 

 

 

এবারে আসি একটি গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের গতিবেগের কথায়। একটি ছায়াপথের প্রতিটি জায়গায় গতিবেগ কিন্তু সমান নয়। ছায়াপথের প্রতিটি অঞ্চল ছায়াপথের কেন্দ্রের সাপেক্ষে পাক খাচ্ছে; স্বাভাবিকভাবেই ছায়াপথের কেন্দ্রের কাছাকাছি অঞ্চলকে প্রদক্ষিণ করতে হবে অপেক্ষাকৃত কম ভরকে পরিবেষ্টন করে। ফলে সেই অঞ্চলে গতিবেগ কম হবে। কিন্তু আমরা ছায়াপথের কেন্দ্র থেকে যত বাইরের দিকে যাব, তাকে ঘুরতে হবে অপেক্ষাকৃত বেশি ভরকে ঘিরে। ফলে সেই অঞ্চলের গতিবেগকে হতে হবে অপেক্ষাকৃত বেশি। ভরের সমানুপাতিক মহাকর্ষ বলই এই অঞ্চলে গতিবেগের বৃদ্ধির জন্য মুখ্যভাবে দায়ী। কিন্তু ছায়াপথের কেন্দ্র থেকে পরিক্রমণরত অঞ্চলের দূরত্ব যদি বেশি বেড়ে যায়, অথচ তার কক্ষপথের বেষ্টনীর মধ্যে থাকা ভর ততটাও না বাড়ে, তার ওপর মহাকর্ষের প্রভাব আবারও কমতে থাকবে— ওই যে বলেছিলাম মহাকর্ষ দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক! ফলস্বরূপ প্রদক্ষিণরত এলাকার গতিবেগ আবারও কমতে থাকা উচিৎ। তাহলে দাঁড়াল, একটা ছায়াপথের গতিবেগ দূরত্ব বাড়ার সাথে সাথে প্রথমে বাড়া উচিৎ ও একটা দূরত্বের পর থেকে বা ছায়াপথের বাইরের দিকে, যেখানে কোনও নতুন ভরের উপস্থিতি নেই, গতিবেগ আবারও কমে যাওয়া উচিৎ। এই দূরত্বের সাথে গতিবেগের পরিবর্তন, যার ভালো নাম গ্যালাক্টিক রোটেশনাল কার্ভ, ছিল ভেরা রুবিনের পর্যবেক্ষণের বিষয়। রুবিন উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে এই গতিবেগ মাপতে গিয়ে দেখালেন, ছায়াপথের ঘূর্ণনের গতিবেগ যেখানে দূরত্ব বাড়ার সাথে সাথে কমা উচিৎ, সেখানে তা প্রায় ধ্রুবক থাকছে, বা অনেকাংশে বেড়েই চলেছে (ছবি-নিচে)। 

 

 

 

 

এই পর্যবেক্ষণের ময়নাতদন্ত করলে কি পাওয়া গেল? ছায়াপথের কোনও অঞ্চল যে ভরকে পরিবেষ্টন করে পরিক্রমা করছে, তার সম্পূর্ণটা হয়ত আমাদের কাছে অধরা। প্রশ্নটা তাহলে, এমন কিছুর উপস্থিতি কি থাকা সম্ভব এই ছায়াপথে, যাকে দেখা না গেলেও তার ভরের প্রভাব মহাকর্ষ বলের ওপরে পড়ছে, ফলস্বরূপ বদলে যাচ্ছে ছায়াপথের ঘূর্ণনের প্যাটার্ন? তবে কি এই অদৃশ্য ভরই তিরিশের দশকে ফ্রিৎজে্র অনুমান— ‘ডুঙ্কেল মেটিরি’?

 

 

এমন কিছুর উপস্থিতি কি থাকা সম্ভব এই ছায়াপথে, যাকে দেখা না গেলেও তার ভরের প্রভাব মহাকর্ষ বলের ওপরে পড়ছে, ফলস্বরূপ বদলে যাচ্ছে ছায়াপথের ঘূর্ণনের প্যাটার্ন?

 

 

যেটুকু বোঝা গেল, এটা এমন একটি বস্তু যে তড়িৎ-চুম্বকীয় আন্তক্রিয়ায় (ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক ইন্ট্যারাকশন) সাড়া দেয় না। তাই এই বস্তুটি দৃশ্যমান আলো, বেতার তরঙ্গ, এক্স রশ্মি প্রভৃতি কোনোরকম তড়িৎ-চুম্বকীয় ফাঁদে ধরা পড়ে না। এর তল্লাশির উপায় হল, এদের ভরের জন্য জন্ম নেওয়া গ্র্যাভিটি বা মহাকর্ষ বল৷ ফলে এই বস্তুদের চেনার একটা উপায় হতে পারে গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং। এবারে প্রশ্ন হল, গ্র্যাভিটি বা মহাকর্ষের সাথে লেন্সের কি সম্পর্ক? 

 

 

আমরা জানি লেন্সের কাজ হল সরলরেখা বরাবর চলা আলোর পথকে বেঁকিয়ে দেওয়া। অন্যদিকে আইস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদ থেকে আমরা জেনেছে খুব ভারী বস্তুও আলোর পথকে বাঁকিয়ে দিতে পারে। অর্থাৎ, মহাকর্ষ লেন্সের মত কাজ করতে সক্ষম। আর তাই যদি হয়, মহাবিশ্বের কোনও উৎস থেকে আসা আলো মূল পথ থেকে কতটা বেঁকেছে তা দেখে বলে দেওয়া সম্ভব, যার কারণে আলোর এই বক্রতা, তার ভর কত। এখন ধরা যাক দেখা গেল, আলোর যাতায়াতের রাস্তায় থাকা দৃশ্যমান বস্তুর ভর আর আলোর বক্রতার পরিমান সামঞ্জস্যপূর্ণ, তাহলে বলা যাবে যে, আলোর পথকে লেন্সের মত বেঁকিয়ে দিচ্ছে শুধু দৃশ্যমান বস্তুগুলো। কিন্তু যদি দেখা যায়, আলো যতটা বাঁকছে, ততটা বক্রতার জন্য আরও বেশি ভর দরকার, যাকে দেখা যাচ্ছে না, তাহলে সেই হিসেব থেকেই আমরা অদৃশ্য বস্তুর ভর সম্পর্কে একটা ধারণা পেতে পারি।

 

 

এবারে একটা গল্প বলি। ধরা যাক একটা ট্যাক্সির সাথে একটা লরির মুখোমুখি সংঘর্ষ হল। অ্যাক্সিডেন্টের বাস্তবিক ভয়ঙ্কর দিকটা যদি সরিয়ে রাখি তাহলে কি দেখব? দেখব তারা একে অপরকে খানিকটা জখম করে দিকভ্রষ্ট করে দিয়েছে, এবং হয়ত কিছুটা দূরে গিয়ে থমকে গেছে। এবার ধরা যাক, দুই গাড়িতেই দু’জন অদৃশ্য অশরীরী আছে। দেখা গেল তারা বেমালুম একে অপরকে ভেদ করে চলে গেল, টেরই পেল না যে দুটো গাড়ি মাঝরাস্তায় অ্যাক্সিডেন্টে পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে। এখন যদি কোনও ভুতুড়ে ক্যামেরায় অ্যাক্সিডেন্টের আগে ও পরের ছবি নেওয়া যেত? সংঘর্ষের আগে দেখা যেত, অশরীরীরা নিজেদের গাড়িতেই আছে৷ আর সংঘর্ষের পরে দেখা যাবে গাড়িদুটো ধাক্কা খেয়ে ধীর গতিতে চলছে বা থমকে গেছে। কিন্তু অশরীরীরা সেটা টের পায়নি, ওরা ততক্ষণে একে অপরকে ভেদ করে খানিকটা এগিয়ে গেছে। 

 

 

যদিও ওপরের গল্পটি অতীব আজগুবি, কিন্তু এরকমই একটা কসমিক্ কার ক্র্যাশের ছবি পাওয়া গেল ২০০৬ সালে, চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরির একটা প্রায় ১০০ ঘন্টার পর্যবেক্ষণে। সে সময়ে অবসার্ভেটরিটিতে দুটো গ্যালাক্সি ক্লাস্টারের সংঘর্ষের এক্স-রে চিত্র পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। এদের মধ্যে উচ্চগতি-সম্পন্ন ছোট ক্লাস্টারটি অপেক্ষাকৃত বড় ক্লাস্টারটিকে সজোরে ধাক্কা মেরে যাওয়ার সময় ক্লাস্টারের প্রায় একশো মিলিয়ন ডিগ্রি তাপমাত্রায় থাকা গ্যাসের মেঘ ‘বুলেট’এর মত আকৃতি নেওয়ায় এটি ‘বুলেট ক্লাস্টার’ নামেও পরিচিত। এই উচ্চ তাপমাত্রা-সম্পন্ন মেঘের সংঘর্ষের কারণে যে তড়িৎ -চুম্বকীয় আন্তক্রিয়া হল, তার কারণে আগত এক্স-রশ্মি ধরা পড়ল চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরিতে। এদিকে এক্স-রশ্মির চোখ এড়িয়ে চলে গেল আমাদের গল্পের মূল চরিত্র। বুঝলাম কীকরে? হাবল্ স্পেস টেলিস্কোপ গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং-এর সাহায্য নিয়ে দেখাল, সংঘর্ষে একে অপরকে ভেদ করে চলে যাওয়া দুটি অত্যাধিক ভরযুক্ত অদৃশ্য বস্তুর উপস্থিতি। আমাদের গল্পের ভাষায়, চন্দ্র এক্স-রে অবজার্ভেটরির দেখতে পাওয়া সংঘর্ষে ধরা পড়ল শুধুমাত্র ‘কার ক্র্যাশ’-এর দুটো গাড়ির ছবি। অন্যদিকে হাবল্ স্পেস টেলিস্কোপ দেখাল, ক্লাস্টার দুটোর সিংহভাগ ভর ওই ‘কার ক্র্যাশ’এর জায়গায় নেই! গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং দিয়ে তারা খুঁজে পেল দু’পাশে বাধাহীনভাবে এগিয়ে যাওয়া দুই অসম্ভব ভারী অশরীরীকে। এই পর্যবেক্ষণ ডার্ক ম্যাটারের অনুমানকে আবার একবার সমর্থন করল। 

 

 

শুধু কি তাই, আমরা জানি আজ থেকে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে ঘটে যাওয়া যে মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং-এ বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের জন্ম, তখনকার স্মৃতি নিয়ে এখনো মহাবিশ্বের উপস্থিত প্রথম আলো বা কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাগ্রাউন্ড (‘মহাবিশ্বের ছোটবেলার ছবি’ প্রবন্ধটিতে এই বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে)। তার অতিসূক্ষ্ম ফ্লাকচুয়েশন বা ওঠানামা দেখে অঙ্ক কষে বলা সম্ভব যে আমাদের মহাবিশ্বের দৃশ্যমান বস্তুর পরিমান ৫% এরও কম। এই ৫%-এর মধ্যেই আমরা, গাছপালা, গ্রহ-নক্ষত্র, চারপাশে দেখতে পাওয়া সবকিছু। এবং এর প্রায় পাঁচ গুণ, অর্থাৎ প্রায় ২৭% হল ডার্ক ম্যাটার বা তমোপদার্থ। আর বাদবাকি প্রায় ৬৮% হল ডার্ক এনার্জি বা তমোশক্তি। যদিও তমোপদার্থ ও তমোশক্তি, দুটো নামেই ডার্ক-এর অস্তিত্ব আছে, তার অর্থ এই নয় যে তমোপদার্থ ও তমোশক্তি একই বস্তু বা আন্তঃসম্পর্কিত। মিল বলতে, এদের দুজনের ওপর থেকে এখনো অজানা অন্ধকারের চাদর সরানো যায়নি। 

 

 

তবে আমাদের গল্প শুধু তমোপদার্থ বা ডার্ক ম্যাটারকে নিয়েই। আর পরের পর্বে আমরা উদ্ঘাটিত করার চেষ্টা করব এই অন্ধকারের নায়কের চেহারা। তার জন্ম-কর্ম রহস্য। জানব ডার্ক ম্যাটারের গল্প আদৌ ফুরালো কিনা!

 

 

** ভুতের সিনেমার প্রসঙ্গটি শুধুমাত্র মজার ছলে টানা, এর সাথে বিজ্ঞানের বা তমোপদার্থের কোনও যোগাযোগ নেই। 

 

 

——————————-

~ কলমে এলেবেলে চিরশ্রী ~

 

এলেবেলের দলবল

 

► লেখা ভাল লাগলে অবশ্যই লাইক করুন, কমেন্ট করুন, আর সকলের সাথে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন। 

► এলেবেলেকে ফলো করুন। 

 

 

 

 

 

One thought on “ডুঙ্কেল মেটিরি: এক অসমাপ্ত গল্প (পব-১)

Leave a Reply

free hit counter
error

লেখা ভালো লেগে থাকলে দয়া করে শেয়ার করবেন।