পৃথিবীর বৃহত্তম তৈল বিপর্যয়: ডিপ ওয়াটার হরাইজন অয়েল স্পিল

প্রিয়জনদের শেয়ার করুন
278 বার লেখাটি পঠিত হয়েছে ~~~

 

 

খনিজ তেল!!! দুটো মাত্র শব্দ, কিন্তু এর মধ্যেই মিশে আছে অগাধ সম্পত্তি, সাধে কি বলে “তরল সোনা”?!

গাড়ি,বিমান, রকেট, হেলিকপ্টার যে কোনো যানের পেট ভরাতে তেল লাগবেই। একদিকে তেল মানবসভ্যতাকে কয়েক কদম এগিয়ে দিয়েছে, উল্টোদিকে পরিবেশে দূষণ ঘটিয়ে ক্ষতিও করে চলেছে।

আচ্ছা কেমন লাগবে আপনার, যদি শোনেন যে সমুদ্রে কয়েক গ্যালন তেল মিশে গেছে; যার পোশাকি নাম অয়েল স্পিল (oil spill)?! সমুদ্রের প্রচুর প্রাণী ও উদ্ভিদ মারা গেছে! শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই বর্তমানে আকছার হয়। এই অয়েল স্পিল বিভিন্নভাবে হতে পারে, যেমন খনি থেকে তেল উত্তোলনের সময়ে, খনিতে কোনো কারণে বিস্ফোরন ঘটে বা তেল জলপথে কোনো জাহাজ বা বার্জে করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার সময়ে।

একটা ‘ছোট্ট’ উদাহরণ দেওয়া যাক— শুধুমাত্র মার্কিন দেশেই প্রতিবছর গড়ে ১০০০ খানা অয়েল স্পিলের ঘটনা ঘটে।

১৯৬৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারাতে অন্তত ৪৪ খানা অয়েল স্পিলের ঘটনা ঘটে, প্রত্যেকবার ৪,২০,০০০ গ্যালন তেল সমুদ্রে মিশেছে। এবার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ-এর একটা আন্দাজ পাওয়া গেল নিশ্চয়ই?

 

চিত্র: ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারা তৈল বিপর্যয়।

 

আজকে আমরা যে অয়েল স্পিল নিয়ে আলোচনা করব, তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তো বটেই, সমগ্র মানবসভ্যতার ইতিহাসেও সর্ববৃহৎ পরিবেশ বিপর্যয়। এর আগে ”সর্ববৃহৎ পরিবেশ বিপর্যয়” নামক এই কুখ্যাত তকমা ছিল Ixtoc I oil spill -এর দখলে। এটি হয় ১৯৭৯ সালের ৩ জুন মেক্সিকোর কম্পিখ উপসাগরে। এই ঘটনার একত্রিশ বছর পর অর্থাৎ ২০১০ সালের ২০-এ এপ্রিল ঘটে Deepwater Horizon Oil Spill। স্থান ঐ একই, অর্থাৎ মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলেই, কিন্তু বহরে ছিল Ixtoc I oil spill -এর থেকে শতকরা আট থেকে একত্রিশ গুণ বড়। মার্কিন সরকারের অনুমান, এই দুর্ঘটনায় মেক্সিকোর লুইজিয়ানা উপকূলে ৪১ মাইল অর্থাৎ ৬৬ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে প্রায় ৪.৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল নির্গত হয়। এই তেল নির্গমনের পথ বন্ধ করার বহু ব্যর্থ চেষ্টার পর অবশেষে ১৯শে সেপ্টেম্বর ওই তৈলকূপকে স্থায়ী ভাবে সিল করা হয়।

চিত্র:- তেলকূপে বিস্ফোরণ

 

নিহত হন ১১ জন শ্রমিক ও ১৩ জন গুরুতর আহত হন। মার্কিন উপসাগরে ১৩০০ মাইল (২১০০ কিলোমিটার) জুড়ে উপকূল অঞ্চল তেলে ঢাকা পড়েছিল। মেক্সিকো উপসাগর এবং তার আশপাশের অনেকটা পরিমাণ বনাঞ্চল বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হয়, অনুমান করা হয় প্রায় ৮০,০০০ পাখি, ৬৫,০০০ কচ্ছপ ও ১১৪১ টি ডলফিন মারা যায় (বিশেষজ্ঞদের মতে এই সংখ্যাগুলো আরও বেশি)। 

চিত্র:- কূপ থেকে তেল নির্গমন 

 

ঐ তৈলকূপটি লিজে নিয়েছিল যে বিপি তেল কোম্পানী তারা এই দুর্ঘটনার ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বিভিন্ন জনজাতিকে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয়।

মোট যে পরিমান তেল ছড়িয়ে পড়েছিল,তার শতকরা ২০ ভাগ সমুদ্রের তলদেশে চলে যায়, ফলস্বরূপ সমুদ্রের গভীরে যে বাস্তুতন্ত্র, তাও ব্যাপক পরিমাণে ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

ডিপওয়াটার হরাইজন অয়েল স্পিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপির খাতে অবস্থিত ছিল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪,৯৯৩ ফিট (১,৫২২ মিটার) নিচে এবং ১৮,০০০ ফিট (১,৫২২ মিটার) অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিল এটি।

Offshore-oil-drilling এর মালিকানাধীন এবং নিয়ন্ত্রণাধীন এই তৈলকূপ লিজে নিয়েছিল ব্রিটিশ তেল কোম্পানি বিপি (BP)। কুড়ি এপ্রিল রাতে, হ্যালিবার্টন (Halliburton) নামে একটি ঠিকাদার সংস্থা কংক্রিট দিয়ে তেলকূপটি সাময়িক সিল করতে যায়, তখনই ঘটে বিপত্তি। তেলকূপে জমে থাকা প্রাকৃতিক গ্যাসের কারণে এক বিশাল বিস্ফোরণ হয়। আসলে ওই কূপে তেলের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়েছিল সেখানকার কর্মীরা। যখনই এই ধরনের ঘটনা ঘটে, তখনই “blowout preventer” নামে একটি যন্ত্র স্বয়ংক্রিয় ভাবে কাজ শুরু করে তেলের কূপ সিল করে দেয়। কিন্তু সেদিন এই blowout preventer ও ব্যর্থ হয়েছিল। কূপের অভ্যন্তরে জমে থাকা বিভিন্ন হাইড্রোকার্বন যৌগ তীব্র বেগে কূপ থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করে, ফলস্বরূপ হতে থাকে মুহুর্মুহু বিস্ফোরণ।

বিস্ফোরণের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, মিসিসিপি আর লুইজিয়ানা অঞ্চল থেকে কাজ করতে আসা মোট এগারো জন শ্রমিক বেঘোরে প্রাণ হারান।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে কূপটি সিল করতে এতদিন সময় লাগল কেন? এই ঘটনার সর্বশেষ প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা গেছে যে প্রযুক্তিবিদরা মোট ১০ খানা ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন তেল নির্গমন আটকাতে। প্রথম প্রচেষ্টায় তারা ব্লোআউট প্রিভেন্টর নামে একটি রিমোট কন্ট্রোল চালিত স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ব্যবহার করেছিলেন তেলকূপের মুখ বন্ধ করার জন্য। তাতে কোনো কাজ না হওয়ায় তেলকূপের মধ্যে কাদামাটি ঢুকিয়ে বিস্ফোরণ বন্ধ করার চেষ্টা করেন। এরকম ভাবে আরও বার কয়েক ব্যর্থ চেষ্টার পর অবশেষে কূপের মুখে একটি বল্টু বসানো হয় সিল করার জন্য। এতে প্রাথমিকভাবে কাজ হয়, তেল নির্গমন সাময়িক বন্ধ হয়। ততক্ষণে প্রচুর পরিমাণে কাদামাটি উচ্চ চাপে কূপের মধ্যে ঢোকানো হতে থাকে, এভাবে কূপটি পুরোপুরিভাবে সিল করা হয়, ফলে লেগে যায় প্রচুর সময়। তেলের লিক শুরু হয়েছিল ২০ এপ্রিল, তেল নির্গমন বন্ধ করা হয় ১৫ জুলাই ও পার্মানেন্ট সিল করা হয় ১৯শে সেপ্টেম্বর।

এই বিস্ফোরণের ফলে আসলে কতটা অঞ্চল জুড়ে তেল ছড়িয়ে পড়ে আর ক্ষতির পরিমাণই বা কতখানি?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাবার জন্য বিপি তেল কোম্পানি পোলারিস নামে একটি গোষ্ঠীর সাথে চুক্তি করে, ঠিক হয় পোলারিস এই ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল সার্ভে করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করবে।

Shoreline cleanup-এর প্রযুক্তিগত উপদেষ্টা এড ওয়েন্সের মতে, এই বিস্ফোরণের ফলে মোট যে পরিমাণ তেল ছড়িয়ে পড়েছিল, তার শতকরা নব্বই ভাগ তেলই সমুদ্রের তলদেশে চলে গেছে, বাকি দশ ভাগ উপকূলরেখা বরাবর তটভূমিতে ছড়িয়ে পড়েছে।

ওয়েন্সের দল উপকূলরেখা বরাবর প্রায় ৪০০০ মাইল জরিপ করেছে এবং প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তাদের মনে হয়েছে যে ১০০০ মাইলেরও বেশি অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এর মধ্যে ২০০ মাইল অঞ্চল জুড়ে তিন ফুট উচ্চতার তেল অত্যন্ত ঘনভাবে ছড়িয়ে যায়। সমুদ্রের উপকূলে মোট যত তেল ছড়িয়েছিল তার শতকরা ৫০ ভাগ এই ২০০ মাইল অঞ্চল জুড়েই বিস্তৃত ছিল।

ওই বছরেরই ডিসেম্বর মাসে জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষকদল সমুদ্রে প্রায় ২৯০০ বর্গমাইল অঞ্চল জুড়ে মৃত বিভিন্ন প্রানী ও উদ্ভিদের দেহ আবিষ্কার করে। তাদের মৃত্যুর কারণ ছিল ওই ছড়িয়ে পড়া তেল।

   

চিত্র: সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়ার ফলে মৃত প্রাণীরা

 

চিত্র:- বিস্ফোরণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত উদ্ভিদ

 

যদিও কিছু বৈজ্ঞানিক মনে করেন যে তেল অনেকটা অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে পড়লেও প্রানী বা উদ্ভিদের সেই অর্থে কোনরকম ক্ষতিসাধন হয়নি ও সমুদ্রের বাস্ততন্ত্রও খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। কিন্তু ক্ষতি যে হয়েছে এবং তার পরিমাণও যে খুব একটা কম নয়, বরং অনেক বেশিই, সেই নিয়ে সিংহভাগ বিজ্ঞানীই সহমত।

এই বিস্ফোরণের জন্য আসলে দায়ী কে তা নিয়ে  দীর্ঘদিন তর্ক বিতর্ক ও সমালোচনা চলে  বিপি, হ্যালিবার্টনের ও ট্রান্সওসিয়ানের মধ্যে। বিপি প্রথমে পুরো দোষটাই চাপায় হ্যালিবার্টনের উপর। বিপির প্রধান কার্যনির্বাহী সম্পাদক টনি হাওয়ার্ড একটি বিবৃতিতে জানান যে,তেলকূপের সিল করতে অত্যন্ত নিম্নমানের সিমেন্ট ব্যবহার করেছিল হ্যালিবার্টন, ফলস্বরূপ বিস্ফোরণের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি রুখতে তারা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়।

যদিও বিপি তাদের প্রকাশিত অন্য আর একটি প্রতিবেদনে এই ঘটনার জন্য দায়ী করেছে ট্রান্সওসিয়ানকে। কারণ তেলকূপের যথাযথ রক্ষনাবেক্ষণ করতে এবং তেলকূপের স্বাস্থ্যের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে বিপিকে অবহিত করতে তারা চরম ব্যর্থ হয়। ট্রান্সওসিয়ান আবার এর পরিপ্রেক্ষিতে বিপিকেই কাঠগোড়ায় দাঁড় করায়, তারা বলে যে বিপির ওই প্রতিবেদন ভুলে ভরা ও অত্যন্ত একপেশে। নিজেদের দোষ ঢাকতেই বিপি ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বলে জানায় তারা।

এই ঘটনার তদন্তের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিল ৬৪ জন বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী ও গবেষক নিয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক দল। তারা বিস্ফোরণস্থল তেলকূপ সরেজমিনে খতিয়ে দেখে পরিদর্শন করে এই নিদান দিয়েছিলেন যে বিস্ফোরণের পিছনে কাজ করেছে চরম গাফিলতি। সাধারণত এই ধরনের বড় তেলকূপ থেকে তেল উত্তোলনের সময়ে যে পরিমান সতর্কতা পালন করার কথা, তার সিকিভাগও পালিত হয়নি। বিপি আগে থেকেই জানত যে blowout preventer যন্ত্রে ত্রুটি আছে কিন্তু তা সত্বেও যন্ত্রের ত্রুটি সারাইয়ের জন্য কোনোরকম উদ্যোগ নেয়নি। তেল উত্তোলনের নকশাও ছিল যথেষ্ট ত্রুটিপূর্ণ ও যথাযথ পরিকল্পনার অভাব ছিল প্রকট। ফলে সমুদ্রের প্রচুর জীবের (এই তালিকায় সিল এবং ওয়ালরাসও ছিলো) প্রাণহানি হয় ও বাস্তুতন্ত্র চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

এই দুর্ঘটনার ফলে বিপির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বারবার। পরবর্তীকালে বিপি কোম্পানির একটি অভ্যন্তরীণ গোপন রিপোর্ট ফাঁস হয়ে যায় এবং জানা যায় যে বিপি সর্বসমক্ষে যা হিসেব দিয়েছিল, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তার থেকেও ২০ গুণ বেশি!

আমেরিকার তৎকালীন ডেমোক্র্যাটিক প্রবীণ রাজনীতিবিদ মার্কি, যিনি ওই সময়ে আমেরিকার শক্তি ও পরিবেশের বিষয়ক সাব-কমিটির প্রধান ছিলেন তিনি ওই রিপোর্ট সর্বসমক্ষে তুলে ধরে বিপির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন এবং এও বলেন যে দুর্ঘটনার পর থেকেই কোম্পানি বিপর্যয়ের আসল কারণ এবং প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সরকার ও দেশের জনসাধারণের থেকে লুকাচ্ছে ও সমানে মিথ্যাচার করে আসছে।

সবথেকে আশ্চর্যজনক বিষয় হল যে এই দুর্ঘটনার পরে পরেই বিপি তাদের বিজ্ঞাপনী বাজেট তিনগুণ বাড়িয়ে ৬০ মিলিয়ন (৬ কোটি) করে। বিভিন্ন স্থানীয় দৈনিক এবং টেলিভিশন চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিপি ফলাও করে প্রচার চালাতে শুরু করে যে, তাদের অসীম তৎপরতার কারণেই  বিস্ফোরণের তীব্রতা, ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানী অনেকাংশে কম হয়।

২০১০ সালে বিপি ঘোষণা করে যে এই বিপর্যয়ের জন্য তাদের মোট ৪০ বিলিয়ন ডলার (২০১০ সালে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১.৭৬ লক্ষ কোটি টাকা) ক্ষতি হয়।

 

চিত্র:- টনি হাওয়ার্ড, যিনি ২০০৭ এর পয়লা মে থেকে ২০১০ এর পয়লা অক্টোবর অব্দি বিপির কার্যনির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। বিপর্যয়ের পর টনিকে সরিয়ে দেওয়া হয়, টনির জায়গায় স্থলাভিসিক্ত হন জন ব্রাউন।

 

চিত্র:- জন ব্রাউন

 

১৫ই এপ্রিল যেখানে কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ছিল ৬৫৩ পেন্স, মাত্র আড়াই মাসের মধ্যে ২৯শে জুন শেয়ার প্রতি মূল্য নেমে দাঁড়ায় ৩০৩ পেন্সে। তারা দাবি করে যে সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়া তেল পরিষ্কার করতে তারা মোট ৭.৯ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে।

সমুদ্র থেকে তেল পরিষ্কার করতে মোট ২.৫ বছরেরও বেশি সময় লাগে। যদিও যে পরিমাণ তেল আসলে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা পুরোটা পরিষ্কার করা কখনোই সম্ভব ছিলনা, তবুও তারা আশাবাদী ছিল যে হারিকেনের মরশুমে সমুদ্রে বেশ কিছুটা তেল পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে।

এই বিপর্যয়ের পর এক দশকেরও বেশি সময় কেটে গেছে। কিন্তু এখনও ওই অঞ্চলের উদ্ভিদ ও প্রাণী এই ক্ষমার অযোগ্য ভুলের মাশুল গুনছে। গভীর সমুদ্রের কোরাল, কমন লুনের মত বিভিন্ন প্রজাতি নিজেদের অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে, ডলফিন, তিমি এবং সমুদ্র কাছিমদের জীবনযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে। এই বিপর্যয়ে আসলে কতটা ক্ষতি হয়েছে আর কতদিন এই ক্ষতি চলবে এইসব বিষয়ে এখনই মন্তব্য করার সঠিক সময় নয় বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

যেহেতু সামুদ্রিক জীবরাই সমুদ্রের স্বাস্থ্যের অবস্থার নির্দেশক সুতরাং ওইসব জীবদের জীবনযাত্রার পরিবর্তন লক্ষ্য করলেই সমুদ্রের কতটা ক্ষতি হয়েছে তা বোঝা সম্ভব হবে। তাই তেল মিশে সমুদ্র জীবনে কতটা ক্ষতি হয়েছে তা গবেষণা করে নির্ণয় করার জন্য, মেক্সিকো এনার্জি সিকিউরিটি অ্যাক্ট, গালফ অফ মেক্সিকো রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ এবং খুব সম্প্রতি বিপি এবং মার্কিন সরকারের মধ্যে হওয়া চুক্তি অনুসারে মোট ১৬ বিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ১১,৯১,২২,৬৪,০০,০০০ কোটি টাকা)গবেষণায় বরাদ্দ করা হয়।

দীর্ঘ এক দশক গবেষণার পর, গবেষকদলের অন্যতম সদস্য সিন্থিয়া স্মিথ আবিষ্কার করেন যে, লুইজিয়ানা অঞ্চলের (যে সব জায়গায় তেল ছড়িয়ে পড়েছিল তাদের মধ্যে লুইজিয়ানা অন্যতম) ডলফিনদের মধ্যে মাত্র শতকরা ২০ ভাগ ডলফিন গর্ভধারণে সক্ষম হচ্ছে। বাকি ৮০ ভাগ ডলফিন প্রজননে ব্যর্থতা, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যার শিকার। এ তো গেলো ডলফিনদের কথা, যে সব জায়গায় তেল ছড়িয়েছিল, সেইসব অঞ্চলে তিমি ও অন্যান্য জীবের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

সবমিলিয়ে একটা কথা পরিষ্কার যে পরিবেশের কতটা ক্ষতি হয়েছে তা বুঝতে আরও অনেকদিন সময় লাগবে। বিভিন্ন উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে চেষ্টা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য গবেষণায় ব্রতী হয়েছেন দেশ বিদেশের বিজ্ঞানীরা।

 

—————————————————————

 ~কলমে এলেবেলে দেবারুন~

 

এলেবেলের দলবল

 

► লেখা ভাল লাগলে অবশ্যই লাইক করুন, কমেন্ট করুন, আর সকলের সাথে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন। 

► এলেবেলেকে ফলো করুন। 

 

 

 

 

Leave a Reply

free hit counter
error

লেখা ভালো লেগে থাকলে দয়া করে শেয়ার করবেন।