স্বভাবের গভীরে

প্রিয়জনদের শেয়ার করুন
642 বার লেখাটি পঠিত হয়েছে ~~~

~ কলমে এলেবেলের অতিথি ডাঃ তীর্থঙ্কর দাশগুপ্ত ~ 


 

এক রবিবার বিকেলে সংকেতদা মানে ডাঃ সংকেত সেনশর্মার বাড়ীতে জমাট আসর বসেছে। সংকেতদার সাথে ইতিমধ্যে সবার পরিচয় হয়েছে আশা করি। পেশায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আর নেশা ব্রেন বিষয়ক বিভিন্ন আলোচনা করা, যাতে মানুষের সচেতনতা বাড়ে। যথারীতি আজকের আড্ডায় এসেছে রনি, রূপক, সুপ্রিয় আর অনিন্দ্য— ইলেভেন টুয়েলভে পড়া সব অনুসন্ধিৎসু ছাত্র। ঘরে ঢুকেই রূপক বলে “জানো সংকেতদা কাল বিকেলে হঠাৎ রনি আমাদের ফোন করে বলে ওর বাড়ীতে যেতে। নেটফ্লিক্সে ম্যাট্রিক্স টু দেখা হবে, সাথে চা পকোড়া খাওয়া। আমি একটু কিন্তু কিন্তু শুরু করলেও পরে রাজি হয়ে যাই। কিন্তু সুপ্রিয় আর অনিন্দ্যর সে কি ভয় যদি দেখতে। সামনেই আমাদের কোচিং সেন্টারে বায়োলজির একটা মক টেস্ট আছে বলে ওদের নাকি পড়ার ক্ষতি হয়ে যাবে। মা নাকি বকবে ওদের। আচ্ছা ভাবো তো, এতবড় ছেলে, মায়ের বকার ভয়ে এলোই না রনির বাড়ী! আর ওদিকে রনিকে দেখো, আগেও একবার দুম করে ক্লাস টেস্টের দু’দিন আগে বন্ধুদের নিয়ে বাড়ীতে সিনেমার আসর বসানোর জন্য বাবার কাছে জোর বকুনি খায়, তাও নির্বিকার।”

“হা হা হা” খুব জোরে হেসে ওঠেন সংকেতদা। “এই জন্যেই তো বলি এক এক মানুষের স্বভাব এক     এক রকম। রনির সামনে কোনো আকর্ষণীয় জিনিষ তুলে ধরলে ও সেদিকেই ছুটবে কিন্তু সুপ্রিয় বা অনিন্দ্য কিন্তু একটু ভীতু স্বভাবের। এদের সামনে প্রলোভন থাকলেও যদি কোনো সমস্যা হয় সেটাই ভেবে আর বেশি এগোবেনা, পিছিয়ে আসবে। এটাই হল যার যার স্বভাব। এর বাইরে ওরা বেরোতে পারবেনা। আর এটা কিন্তু এমনি এমনি হচ্ছেনা। এর রহস্যও লুকিয়ে আছে মানুষের ব্রেনে। চল আজ তাহলে এই স্বভাব নিয়েই আড্ডা হোক। কিভাবেই বা তা আসে, আর কোথা থেকেই বা আসে।” “বাঃ বেশ ইন্টারেষ্টিং টপিক তো” স্বভাবসিদ্ধ ফোড়ন কাটে রনি।

“শুধু ইন্টারেস্টিংই নয় অতি ইন্টারেস্টিং, কিন্তু ভাবছি এতো জটিল একটা বিষয় তোমাদের বোঝাই কী করে। স্বভাবের মূল দুই প্রকার রূপ আছে। একদিকে অতিরিক্ত অনুসন্ধানী উত্তেজনা, আবেগপ্রবণতা, হঠকারিতা, বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি, সব মিলিয়ে যাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায়  নোভেলটি সিকিং বলা হয়। অপরদিকে উদ্বেগ, হতাশা, লজ্জা পাওয়ার প্রবণতা, কিছুটা সন্দেহপ্রবণতা, নতুন কোনো মানুষের সাথে মিশতে বা কথা বলতে জড়তা, সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়া ইত্যাদি, যাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় হার্ম অ্যাভয়ডেন্স বলে।” “কথাটা মন্দ বলেননি সংকেতদা, আমি যেমন চিরকালের ছটফটে, অতো ভেবেচিন্তে কিছু করা আমার পোষায় না। তার মানে আমার নোভেলটি সিকিং স্বভাব বেশি আবার এই অনিন্দ্য আর সুপ্রিয়কে দেখুন। আমার থেকে অনেকগুন বেশি ভীতু । হালকা নার্ভাস হয়েই থাকে সবসময়। ওদের তার মানে হার্ম অ্যাভয়ডেন্স স্বভাব বেশি। আর রূপক কিছুটা মাঝামাঝি।” সাথে সাথে বলে ওঠে ফিচেল রনি। “খারাপ বলোনি, তবে এটা অতি সরলীকরণ, বিষয়টা পুরোটা যদিও এত সরল নয় তবে আজকের আলোচনায় এটাকেই ভিত্তি করে এগোনো যাবে।”

নভেলটি সিকিং

হার্ম অ্যাভয়ডেন্স

“এবারে দেখা যাক এদের মস্তিষ্কের ভিতরে কি চলছে। তো সেটা সহজ ভাবে বুঝতে গেলে ধরে নাও আমাদের ব্রেনে গাড়ীর মতন ব্রেক আর এক্সেলারেটর আছে। ব্রেক কোনো কাজ সম্পন্ন করতে বা এগোতে বাধা দেয় আর এক্সেলারেটর কোনো কাজ দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করতে সাহায্য করে। তবে মানব মস্তিষ্কে এই ব্রেক বা এক্সেলারেটর কিন্তু একটাই অংশ নয়। মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের সমষ্টি ও তাদের মধ্যে সংযোগ।” “ও তার মানে আমাদের ব্রেকটা বেশি স্ট্রং আর রনির এক্সেলারেটর বেশি” বলে সুপ্রিয়। “ঠিক তা নয়। রনির আর তোমাদের দুজনেরই ব্রেক আর এক্সেলারেটর দুটোই স্ট্রং কিন্তু পরিস্থিতি বুঝে কোনোটা বেশি কাজ করে আবার কোনোটা কম।” “এই রে! সব তো গুলিয়ে গেল” বলল রনি।

“দাঁড়াও, বোঝাচ্ছি ভালো করে। হার্ম রিডাকশন আর নোভেলটি সিকিং দুটোই আসলে এক্সেলারেটর। দুটোই কিন্তু মানুষকে সচল রাখছে। প্রথমটায় ব্রেনের সামনে দুটো বিকল্প বা চয়েস খাড়া করলে যে চয়েসে যেকরেই হোক সমস্যা বা আশু বিপদ এড়ানোর সম্ভাবনা বেশি থাকে, সেটি সক্রিয় হয়। এই টাইপের এক্সেলারেটর সর্বদা বিপদ এড়ানোটাকেই তার মূল লক্ষ্য হিসেবে গণ্য করে। আর দ্বিতীয়টি সচল হয় তখনই যখন ব্রেনের সামনে এমন একটি চয়েস আসে যা কিনা খুবই আনন্দদায়ী, এবং কখনো কখনো তুরীয় মনোভাব উদ্রেককারী। এই টাইপের এক্সেলারেটর সর্বদা আনন্দ, ইংরেজিতে যাকে প্লেজার বলা হয় সেটাকেই মূল লক্ষ হিসেবে গণ্য করে। সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে গেলে বিপদ থাকলেও নোভেলটি সিকিং নামক এক্সেলারেটর সেই সবের ধার ধারেনা। অপরদিকে হার্ম রিডাকশন নামক এক্সেলারেটর হাতের সামনে প্রচুর প্রলোভন, প্রচুর আনন্দ প্রদানকারী বিষয় থাকলেও, তাতে উত্তেজিত হয়না। সে বরং বিপদ এড়ানোর জন্য যা যা করলে ভালো হয় সেই দিকেই মস্তিষ্ককে সচল রাখে। মনে রাখতে হবে এই বিপদ কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাল্পনিক। রনির ব্রেনে স্বভাবগত ভাবে নোভেলটি সিকিং নামক এক্সেলারেটর বেশি কাজ করে হার্ম রিডাকশনের তুলনায়। তাই ওর ব্রেনের সামনে নেটফ্লিক্সে নতুন কোনো সিনেমা দেখার প্রলোভনের টান (নোভেলটি সিকিং নামক এক্সেলারেটার) মায়ের কাছে বকা খাওয়ার ভয়ের (হার্ম অ্যাভয়ডেন্স) তুলনায় অনেক বেশি। অন্যদিকে খেয়াল করো সুপ্রিয়, রূপক এরা মায়ের কাছে বকা খাওয়াটাকে  (হার্ম অ্যাভয়ডেন্স) বেশি গুরুত্ব দিল বন্ধুদের সাথে নেটফ্লিক্সে সিনেমা দেখার (নোভেলটি সিকিং) তুলনায়। কারণ ওদের হার্ম অ্যাভয়ডেন্স, নোভেলটি সিকিংয়ের তুলনায় বেশি স্ট্রং, কিন্তু দুটি এক্সেলারেটরই ওদের আছে ঠিক যেমন রনির ব্রেনেও দুটি এক্সেলারেটরই আছে; কিন্তু নোভেলটি সিকিং সামান্য হলেও হার্ম রিডাকশনের তুলনায় বেশি। সকল ব্রেনের মধ্যেই এই দুরকম এক্সেলারেটর বর্তমান শুধু একটা আরেকটার থেকে বেশি স্ট্রং।”

“নোভেলটি সিকিং-এর জন্য দায়ী মস্তিষ্কের অংশগুলি, যাকে এক্সেলারেটর হিসেবে বললাম, সেটা ডোপামিন নামে একধরণের রাসায়নিক বা নিউরোকেমিক্যাল দ্বারা পরিচালিত হয় আর হার্ম রিডাকশানের জন্য দায়ী মস্তিষ্কের অংশগুলি মানে মস্তিষ্কের আরেকধরণের এক্সেলারেটর সেরোটোনিন নামে একধরণের রাসায়নিক বা নিউরোকেমিক্যাল দ্বারা পরিচালিত হয়।”
“বাবাঃ মানুষের স্বভাব তো নয় এ যেন গাড়ী তৈরির কারখানা” স্বভাবসিদ্ধ ফোড়ন কাটে রনি। “সংকেতদা এক্সেলারেটর নিয়েই তো এতো কিছু বললেন” প্রশ্ন অনিন্দ্যর, “তাহলে শুরুতে ব্রেকের প্রসঙ্গ টানলেন কেন? এখানে ব্রেক মানে কি বোঝাতে চেয়েছেন আর মস্তিষ্কে তার কাজটাই বা কি?” “খুব বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন করেছ। ভালো করে চিন্তা করে দেখো মায়ের কাছে বকুনি উপেক্ষা করেও নেটফ্লিক্সে মুভি দেখার প্রলোভন সামনে এলেও সুপ্রিয়, রূপক এরা খুব একটা উৎসাহ দেখাল না। ওদের আটকালো কে? মুভি দেখার আনন্দে ব্রেক কষলো কে? ব্রেনেরই সামনের দিকের কিছু অংশ এক্ষেত্রে ব্রেক হিসেবে কাজ করেছে। এটাকেই স্নায়ুবিজ্ঞানের ভাষায় কগনিটিভ কন্ট্রোল বলে। ব্রেনের সামনের দিকে যেটাকে গুরুমস্তিস্ক বলে সেখানে ডোরসমিডিয়াল প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স, প্রি সাপ্লিমেন্টারি মোটর এরিয়া, ইনফিরিয়ার ফ্রন্টাল গাইরাস নামে কিছু অংশ আছে, সেই অংশগুলির মধ্যে তড়িৎ রাসায়নিক সংযোগ এবং তার সাথে মধ্য মস্তিষ্কে বেসাল গ্যাংলিয়া নামে একটি অংশের মধ্যে পারস্পরিক তড়িৎ রাসায়নিক সংযোগের সম্মিলিত প্রভাব এই ব্রেকের কাজটি করে। মানে প্রলোভনের পিছনে ছোটার হাত থেকে থামায়” বলেন সংকেত। “বেশ এবারে কিছুটা পরিষ্কার হলো” সবাই একযোগে বলে ওঠে।

“কিন্তু একটা বিষয় এখনো পরিষ্কার হলনা, হার্ম অ্যাভয়ডেন্স আর নোভেলটি সিকিং ব্রেনের কোন অংশ থেকে আসে?” বলে রূপক। “অত গভীরে তোমাদের না ঢুকলেও চলবে। কিন্তু তাও যদি জানতে চাও তাহলে বলি, এই দুই প্রকারের এক্সেলারেটর ব্রেনের কোনো নির্দিষ্ট অংশ নয়। এদের অবস্থান কিন্তু সর্বদা সুনির্দিষ্ট নয়। ব্রেনের বিভিন্ন অংশের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ কিছু বিশেষ অবস্থায় বেড়ে যায়, সেটাই তখন সামগ্রিক ভাবে এক্সেলারেটরের কাজ করে। অনেকটা ফুটবল খেলার মতন। স্বাভাবিক খেলা চলাকালীন মিডফিল্ড পজিশনে দৌড়ে বেড়ানো খেলোয়াড় যখন বল পায়ে পেল, তখন ফরোয়ার্ডে খেলতে থাকা অন্য সহ খেলোয়াড়কে পাস বাড়িয়ে দিয়ে চেষ্টা করলো টিমের হয়ে গোলটা করা। এক্ষেত্রে খেলোয়াড়রা যেমন একজায়গায় দাঁড়িয়ে নেই তেমনি এক্সেলারেটর হিসেবে অংশগ্রহণকারী ব্রেনের বিভিন্ন অংশেরও আসলে সুনির্দিষ্ট কোনো শারীরবৃত্তীয় অবস্থান নেই। যে অংশগুলি যখন সক্রিয় সেইগুলিই তখন এক্সেলারেটর কাজ করে। ফুটবল খেলায় গোল করার মতনই ব্রেনের এক্সেলারেটরের মূল কাজই তখন হয় আনন্দ বা প্লেজারের পেছনে ছোটা অথবা বিপদ বা হার্ম এড়ানোর জন্য সর্বতোভাবে চেষ্টা করা।”

“আচ্ছা এই আনন্দ বা প্লেজার ব্যাপারটা আসে কোত্থেকে?” জিজ্ঞেস করে রূপক। “এ আবার কেমন প্রশ্ন হল? মন থেকেই আসে, আবার কোত্থেকে আসবে?” বলে রনি। “এই তাহলে বুঝলি এতক্ষণ শুনে? দেখছিস সংকেতদা সমস্ত আপাত ব্যবহারিক বৈশিষ্ট্য, মানুষের স্বভাব, এর আগে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস সব কিছুই স্নায়ুবিজ্ঞানের ভাষায় বোঝাচ্ছে, সেখানে এতো কিছু শোনার পর তুই সাধারণ মানুষের মতন বলছিস যে আনন্দ মন থেকে আসে?” সাথে সাথে বলে ওঠে রূপক।   “হ্যাঁ রূপক ঠিকই ধরেছে। আনন্দের উৎস কোথায় সেটা স্নায়ুবিজ্ঞানের ভাষায় ও বোঝার চেষ্টা করছে। আসলে আমাদের ব্রেনে আনন্দ উদ্রেককারী একটা সিস্টেম আছে যাকে রিওয়ার্ড সিস্টেম বলে। যে সকল আপাত বাস্তব জিনিস আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয়কে উত্তেজিত করে তা সরাসরি এই রিওয়ার্ড সিস্টেমকে উত্তেজিত করে ও আনন্দ বা প্লেজারের জন্ম দেয়। যেমন ভালো মিউজিক (কর্ণ), ভালো দৃশ্য (চক্ষু), ভালো গন্ধ (নাসিকা), সুস্বাদু খাবার (জিহ্বা), ভালো স্পর্শ (ত্বক) ইত্যাদি পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে ব্রেনের রিওয়ার্ড সিস্টেমকে উত্তেজিত করে। ভেবে দেখ, শুধু এই সব আপাত বাস্তব জিনিসই নয়, অনেক অধরা ধারনা বা কনসেপ্ট যেমন টাকা পয়সা (money), প্রেম (love), সাফল্য (success), খ্যাতি (fame) ইত্যাদিও কিন্তু ভীষণভাবে ব্রেনের রিওয়ার্ড সিস্টেমকে উত্তেজিত করে আনন্দ বা প্লেজারের জন্ম দেয়। যাই হোক এই রিওয়ার্ড সিস্টেম নিয়ে পরে কখনো বিশদে বলা যাবে।

এবারে এইরকম রিওয়ার্ড সিস্টেম উত্তেজনাকারী কোনো বিষয়, তা সে কোনো বাস্তব বিষয়ই হোক যেমন সুস্বাদু খাবার বা সুন্দর দৃশ্যের প্রলোভন, কিংবা অধরা কোনো কনসেপ্ট; যেমন অর্থ বা খ্যাতিই ইত্যাদি যখন কাউকে হাতছানি দেয় তখন নোভেলটি সিকিং যাদের স্বভাবে বেশি আছে তারা বেশি আগুপিছু না ভেবে সেইদিকেই এগিয়ে যায়।

অপরদিকে আনন্দ উদ্রেককারী বিষয়গুলির হাতছানিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে হার্ম অ্যাভয়ডেন্স বেশি আছে যাদের তারা। এদের ব্রেনের সব মনোযোগ গিয়ে ঠেকে আনুষঙ্গিক বিপদের ভয়ে। এদের ওই ব্রেকটা প্রলোভনের সামনে বেশি কাজ করে। দেখা গেছে এদের মধ্যমস্তিষ্কের থ্যালামাসের কার্যকলাপ আনন্দের প্রলোভনের সামনে অনেকটাই কমে যায় আর তখন এদের স্বভাবে হার্ম অ্যাভয়ডেন্স-এর লক্ষণগুলি ফুটে ওঠে। আর এই বৈশিষ্ট্যগুলি অনেকাংশেই জিনগতভাবে প্রকাশিত। এক এক জনের স্বভাবের বৈশিষ্ট্য তাই এক এক রকম। এই মূল ছাঁচটাকে আমূল পরিবর্তন করা কারুর পক্ষে সম্ভব নয়। শুধুমাত্র মাত্রার তারতম্য আনা সম্ভব” একটানা বলে একটু থামলেন সংকেতদা।

“ওহ! তার মানে যার যার স্বভাব পুরোটাই তার মস্তিষ্কের জটিল ক্রিয়াকলাপের পরিণতি। আর এটাও ঠিক এই দুই বিপরীতধর্মী বৈশিষ্টের সূক্ষ্ম ভারসাম্যেই সবাই এগিয়ে চলেছি। কোনো একটা মাত্রাতিরিক্ত বেশি হলেই চরম সমস্যা।” অনেকক্ষণ মন দিয়ে শোনার পর জবাব দিল অনিন্দ্য। “ব্রাভো। একদম ঠিক বলেছ। যদিও অনেকটাই সরলীকরণ করে তোমাদের বললাম, কিন্তু মোটের উপরে এটাই মূল বিষয়। তোমরা বুঝতে পেরেছ তো?” “হ্যাঁ সংকেতদা, অনেকটাই” সবাই বলে ওঠে সমস্বরে “আজ তাহলে এইটুকুই থাক। পরে আবার অন্য কোনো টপিক নিয়ে আড্ডা হবে” এই বলে আজকের মতো এই বৈজ্ঞানিক আড্ডা শেষ হল।

——————————–

তীর্থঙ্কর দাশগুপ্ত পেশায় একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ থেকে এম বি বি এস এবং সাইকিয়াট্রির উপরে স্নাতকোত্তর শিক্ষালাভ। বর্তমানে “মনের আলো” নামে একটি স্নায়ু ও মনোরোগ চিকিৎসা কেন্দ্রের সাথে যুক্ত।

 

 

 

2 thoughts on “স্বভাবের গভীরে

    • September 9, 2021 at 8:07 am
      Permalink

      অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। এই মঞ্চ টির জন্যই এটা সম্ভব হয়েছে 🙏🏼

Leave a Reply

free hit counter
error

লেখা ভালো লেগে থাকলে দয়া করে শেয়ার করবেন।