শক্তি – তৃতীয় পর্ব

প্রিয়জনদের শেয়ার করুন
175 বার লেখাটি পঠিত হয়েছে ~~~

~কলমে স্বপ্নীলা রায়~

(আগের পর্ব)

অপ্রচলিত শক্তির ওপর জোর দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নাই। কিন্তু কেবলমাত্র অপ্রচলিত শক্তির ব্যাপক প্রয়োগ করে এই কাজে সাফল্য আসবে না। এর সঙ্গে জড়িত আছে দুটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির যোগ; এক, শহরাঞ্চলে প্রচলিত শক্তির ব্যবহার কমানো অর্থাৎ অপচয় বন্ধ করা, দুই, প্রচলিত শক্তি ব্যবহারের সব রকম বিকল্প পথ অভিভাবনা ও ব্যবহারিক প্রয়োগ। একটু বিস্তৃত ভাবে বললে বোঝা যায়। শহরাঞ্চলে ও আধা শহরাঞ্চলে। জীবাশ্ম জ্বালানী ভিত্তিক প্রচলিত শক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি কিছু কিছু বিকল্প আছে। যেমন— বিবাদী বাগ, পার্ক স্ট্রীট প্রভৃতি অঞ্চলে সূর্যাস্তের পর সমস্ত অফিসে ও দোকানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা যায়। প্রয়োজন হলে কাজের সময় এগিয়ে নিতে হবে যাতে দিনের আলোর ব্যবহার অনেকটা বাড়ানো যায়। ডিজেলচালিত বাসগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে ডিজেলের পরিবর্তে ৯:১ অনুপাতে চাপ বদ্ধ প্রাকৃতিক গ্যাস ও ডিজেল ব্যবহার করতে হবে। এতে বাস চালানোর খরচ কমবে। এর জন্য যদি কলকাতা শহরে ৫০টি চাপবদ্ধ প্রাকৃতিক গ্যাস ভর্তির জন্য পাম্প হাউস বসানো যায়, তার জন্য হয়ত ১০০ কোটি টাকা খরচ হবে। কিন্তু এই টাকা রাজ্য সরকারের পক্ষে ব্যয় করা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। রাজ্য সরকার বলতেই পারে যে, পাঁচতলা বা তার চেয়ে উঁচু বাড়িতে ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়ে জল গরম করে সেই জল পাইপ দিয়ে প্রত্যেকটি রান্নাঘরে বা বাথরুমে ব্যবহার করতে হবে। যাতে জল গরম করার জন্য জীবাশ্ম জ্বালানী ব্যবহার কমিয়ে আনা যেতে পারে।

সৌরশক্তি থেকে বিদ্যুৎশক্তি আহরণ P.V. কোষের (Photovoltaic Cell) ভূমিকা। সৌরকিরণ থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সিলিকন (অর্ধপরিবাহী) কেলাস নির্মিত গােলাকার ‘সৌর আলােক তড়িৎ কোষ’ ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি সৌর আনোক কোষের ব্যাস ১০ সেমি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ০.৫ ভোল্ট-এ ২ amp. সৌর আলোক তড়িৎ কোষকে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ব্যবহার করা হয় না। সৌর আলোক কোষের শ্রেণী সংযোগে তৈরি। ‘মডিউল’ (module) গঠন বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। ভারতে ৩৩ বা ৩৬টি সৌর আলোক তড়িৎ কোষকে ৭২ সেমি দৈর্ঘ্য, ৬০ সেমি প্রস্থ এবং ৪.৫ সেমি উচ্চতাবিশিষ্ট কাচের বাক্সে শ্রেণী সংযােগে বিন্যস্ত করে ‘মডিউল’ গঠন করা হয়।

 

অপ্রচলিত শক্তি : কিছু তথ্য :

*) জৈব গ্যাস প্রকল্প – ১ কোটি ৭০ লক্ষ মেগাওয়াট 

*) ছোট ও ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ – ১০০০০ মেগাওয়াট 

*) বায়ুশক্তি – ২০০০০ মেগাওয়াট 

*) জোয়ার শক্তি – ৮০০০ মেগাওয়াট

সৌরশক্তি সম্ভাবনা: ভারতের অধিকাংশ অঞ্চল প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৭ কিলোওয়াট আওয়ার সূর্যালোক পায়। পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য রাজধানীগুলোর সূর্যালোক (প্রতিদিন প্রতি বর্গমিটারে গড় কিলোওয়াট আওয়ার) নিম্নরূপ:

পাটনা (৫.৫), ভূবনেশ্বর (৫.৪), কলকাতা (৫.৪), গুয়াহাটি (৫.২), আগরতলা (৫.৩), শিলং (৪.৬), আইজল (৪.৮), ইটানগর (৪.৬) এবং গ্যাংটক (৪.৮)। প্রতি বছর ভারতে ২৫০ থেকে ৩০০ দিন স্বচ্ছ সূর্যালোক থাকে অর্থাৎ আকাশ মেঘলা থাকে না।

  1. v) বায়ু শক্তি: বায়ুশক্তি হল একরকম দূষণ মুক্ত এবং অফুরন্ত শক্তি। এই শক্তি উৎপন্ন করতে কোনও জ্বালানীর প্রয়োজন হয় না। বায়ুশক্তির মাধ্যমে কোনও গ্রীনহাউস গ্যাস, রাসায়নিক বা তেজস্ক্রিয় পদার্থ উৎপন্ন হয় না। খুব সহজে ও স্বল্প ব্যয়ে বেশি মাত্রায় বায়ুশক্তি উৎপাদন করা যায়। 

বায়ু হল সৌরশক্তির একটি রূপ। সূর্য থেকে নির্গত তাপ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন হারে পৌঁছয়। এই তাপ বিকিরণের হার দিনের এবং রাতের বেলায় তারতম্য ঘটে। যেটা আবার অনেকাংশে পৃথিবীর ভূখণ্ডের আকার, জলভাগ এবং স্থলভাগের দ্বারা প্রভাবিত হয়। বায়ুশক্তি থেকে কোনো প্রকার গ্রীনহাউস গ্যাস বা বর্জ্য পদার্থ উৎপাদিত হয় না। 

*) উৎপাদন : বায়ুশক্তি হল একরকম গতিশক্তি যা বায়ুপ্রবাহের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়। বায়ুমণ্ডলের চাপ, তাপমাত্রা ও উচ্চতা বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব নির্ধারণ করে থাকে। বায়ুর ঘনত্ব স্থিতিশক্তিকে আনেকাংশে প্রভাবিত করে।

বায়ুশক্তি দ্বারা চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলি সেখানকার স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য সামান্য ভাবে বিঘ্নিত করে। বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্দেশ্যে বায়ুশক্তি দ্বারা চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন নির্মাণের জন্য প্রতি মেগাওয়াটে ৬০ একর মুক্ত বা ফাঁকা জমির প্রয়োজন।

প্রযুক্তিবিদ্যার উন্নতির সাথে সাথে বায়ুশক্তি দ্বারা চালিত বিদ্যুৎ সহজেই সরবরাহ করা যাবে। 

*) বায়ুশক্তির প্রকারভেদ: বায়ুর গতিপ্রবাহের মাধ্যমে বায়ুশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। কিন্তু এমন ব্যবস্থাও করা যেতে পারে, যখন বায়ুর গতিপ্রবাহের অবস্থা ভাল নয়, তখন উৎপন্ন বিদ্যুৎ ব্যাটারীর মাধ্যমে আগে থেকে সঞ্চয় করা যাবে এবং পরে তা ব্যবহার করা যাবে। হাইব্রিড ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস হিসাবে সৌর প্যানেল বা ডিজেল জেনারেটর ব্যবহার করে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ করা সম্ভব। যান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে জলের পাম্প বা মোটর ইত্যাদি গৃহপালিত পশু, কৃষিসেচ এবং বাড়ীতে জল সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হয়। 

*) বায়ুকল (Wind Farm) গড়ে তোলার জন্য পরিবেশগত প্রেক্ষাপট: বায়ুকলগুলি স্থাপনকরা হয় এমনই সুসঙ্গত জায়গায়, যার বেশির ভাগটাই কৃষিজমি এবং নিস্তব্ধ ও নির্জন মুক্ত এলাকা। বায়ুকল বা হাওয়াকল স্থাপন করার সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলি ক্ষতিকারক দিক হিসেবে চিহ্নিত করে সেগুলি এড়িয়ে চলা বা পরিহার করতে হবে।

  1. a) বিভিন্ন ধরণের গোলমাল বা আওয়াজ 
  2. b) দৃষ্টিসংক্রান্ত প্রভাব
  3. c) তড়িৎচুম্বকীয় ব্যতিচার বা প্রতিবন্ধকতা 

বায়ুচালিত ঘূর্ণন যন্ত্র অনেক বড় উঁচু স্তম্ভের ওপর বসানো হয়। কারণ বায়ুর গতিপ্রবাহ স্থানীয় ভূখণ্ডের দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর গতিপ্রবাহ বৃদ্ধি পায়।

*) Wind Vane হল একটি নির্দেশক sensor যা nacelle -এর সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থিত এবং এটি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণের মূলকেন্দ্র। এই প্রকার বিন্যাস wind turbine-কে বায়ু বরাবর সঠিকভাবে ধরে রাখে। 

*) সময়ের সঙ্গে বায়ুর দিক পরিবর্তিত হয়। ফলে বায়ুর গতিবেগের বিন্যাস নিয়ন্ত্রণ কঠিন এবং সবয়সাপেক্ষ। যে পদ্ধতিতে বায়ু যন্ত্র (wind machine) অনুভূমিক অক্ষ বরাবর বায়ুর সম্মুখীন হয় তাকে yawing বলে।

*) বায়ুশক্তির প্রযুক্তিগত সুবিধা:

  1. i) এটি একটি দূষণমুক্ত অফুরন্ত শক্তির উৎস। 
  2. ii) বায়ুশক্তির জন্য কোনো জ্বালানীর প্রয়োজন হয় না।

 iii) বায়ুশক্তির মাধ্যমে কোনো গ্রীনহাউস গ্যাস উৎপন্ন হয় না। 

  1. iv) কোনও প্রকার ক্ষতিকারক তেজস্ক্রিয় বা রাসায়নিক বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয় না। 
  2. v) প্রতি ১০ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ (প্রতি ১০ মেগাওয়াট ঘণ্টা) উৎপাদনের জন্য।

প্রতি বছর কয়লা বা জীবাশ্ম জ্বালানী থেকে যে পরিমাণ গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গত হয়, সে তুলনায় বায়ুচালিত শক্তি থেকে অনেক কম পরিমাণে (০.৮ থেকে ০.৯ টন) গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গত হয়। 

  1. vi) অনেক ব্যবহারিক প্রয়োগের ক্ষেত্রে বায়ুচালিত শক্তি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য, অর্থনৈতিক ভাবে লাভজনক এবং পরিবেশ বান্ধব।

*) বাতাসকে কাজে লাগিয়ে যান্ত্রিক শক্তি উৎপন্ন করতে এ্যারোজেনারেটর ব্যবহার করা হয়।

  1. v) ভূ-তাপশক্তি: 

*) মৌলিক বা মূল উৎস:

  1. a) ভূগর্ভস্থ উষ্ণ জল (উষও প্রস্রবণ বা ঝরণার জল)
  2. b) উত্তপ্ত শুষ্ক শিলা 
  3. c) ভূগর্ভের উত্তপ্ত গলিত পদার্থ বা ম্যাগমা (aesthonosphere)

*) গঠন প্রক্রিয়া: ভূগর্ভের উত্তপ্ত গলিত পদার্থ বা ম্যাগমা যখন কোন ফাটল বা ছিদ্রপথ দিয়ে ভূপৃষ্ঠের ওপরে উঠে আসে তখন ভূত্বকের নীচে অবস্থিত শিলা উত্তপ্ত হয়। পাশাপাশি বৃষ্টির জল এই ফাটল বা ছিদ্র পথ দিয়ে ভূপৃষ্ঠের নীচে প্রবেশ করে। সেই জল উত্তপ্ত শিলার সংস্পর্শে গরম হয়। পরে বেশ কিছু পরিমাণ গরম জল ভূগর্ভের অভ্যন্তর থেকে ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে এসে উষ্ণ প্রস্রবণ বা ঝরণার আকার নেয়। কিন্তু বেশির ভাগ গরম জল ভূগর্ভের অভ্যন্তরে সচ্ছিদ্র রন্ধযুক্ত শিলাস্তরে আটকে থাকে এবং ভূপৃষ্ঠের নীচে জমা হয়। যাহা ভূতাপ-শক্তির আধার বা ভাণ্ডার হিসাবে পরিচিত।

ভূতাপ বিশেষজ্ঞদের মতে ভূপৃষ্ঠ খনন করে এই ধরণের ভাণ্ডারে সঞ্চিত উষ্ণ জল এবং তা থেকে নির্গত জলীয় বাষ্পের সাহায্যে টারবাইন ঘুরিয়ে ভূতাপীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

*) সুবিধা: একটি কারখানার চুল্লীতে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় দহনের মাধ্যমে তাপশক্তি উৎপন্ন করতে যে খরচ হয়, তার তুলনায় অনেক কম খরচে ভূগর্ভের আভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা থেকে তাপশক্তিকে কাজে লাগানো যায়।

ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরীণ এই শক্তি শীতকালে এবং গ্রীষ্মকালে তাপপ্রবাহের মাধ্যমে ঠাণ্ডা ও গরমের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং সারা বছরই ব্যবহারের উপযোগী উষ্ণ জল পাওয়া যায়। এই একটি ব্যবস্থা যা সকল কার্যপ্রণালী সম্পন্ন করে। এর জন্য এমন এক বিশেষ কৃত্রিম ব্যবস্থা প্রয়োজন, যা বছরের বিভিন্ন সময়ে ঋতু অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারবে।

এই ভূপ্রাকৃতিক শক্তির গঠন প্রণালীর দরুণ সবসময় কম তাপমাত্রায় তাপ সরবরাহ হতে থাকে। এর ফলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রনকারী তাপস্থাপকের আর প্রয়োজন হয় না। এই ভূপ্রাকৃতিক শক্তি ব্যবস্থা ভালো ভাবে কার্যকরী করলে গ্রীনহাউস গ্যাসের নির্গমন কয়লা নির্ভর জ্বালানীর তুলনায় দুই তৃতীয়াংশ কম।

*) ব্যবহারিক প্রয়োগ:

  1. a) বিদ্যুৎ উৎপাদন: উচ্চ তাপ সম্পন্ন ভূতাপীয় কোন বস্তু বা উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। 
  2. b) সরাসরি ব্যবহার: অতীতে ভূতাপীয় কোন বস্তু বা উৎসকে উত্তপ্ত করা, স্নান করা, এবং বিনোদন মূলক কাজে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে কম তাপ সম্পন্ন ভূতাপীয় উৎস ব্যবহার করে গ্রীণহাউস গ্যাস উত্তপ্ত করা হয়। বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। 
  3. c) সৃজনশীল ক্ষেত্রে: সারা বিশ্বে ভূতাপীয় শক্তি সৃজনশীল কাজে ব্যবহার করা হয়। উষ্ণ প্রস্রবণের বা উষ্ণ ঝরণার জল হেলথ স্পা তে (Mineral Water Resort) যন্ত্রণাদায়ক পেশী উপশম করতে ব্যবহৃত হয়। ভূগর্ভের আভ্যন্তরীণ উষ্ণ জল বাড়ি ঘর গরম রাখার কাজে ব্যবহৃত হয়। 

*) উষ্ণ প্রস্রবণ বা উষ্ণ ঝরণার জল: ভূগর্ভের অভ্যন্তরে উত্তপ্ত তরল শিলার মিশ্রণ কোনো ফাটল বা ছিদ্রপথ দিয়ে ভূত্বকের ওপরে এসে সঞ্চিত হয়। সেই উত্তপ্ত তরল মিশ্রণ থেকে নির্গত তাপ ভূপৃষ্ঠের নীচে যে জলস্তর রয়েছে, তাকে উত্তপ্ত করে। সেই উত্তপ্ত উষ্ণ জল কোনও ফাটল বা ছিদ্রপথ দিয়ে শিলাস্তরকে ভেদ করে সজোরে উপরে উঠে এসে পৃথিবীপৃষ্ঠে উষ্ণ প্রস্রবণ বা ঝরণার আকার নেয়। 

*) উষ্ণ প্রস্রবণ (Geysers): গেইসার হল এক ধরণের উষ্ণ প্রস্রবণ যা ভূপৃষ্ঠের নীচে থেকে পর্যায়ক্রমে উদগীরণ হয় বা বেরিয়ে আসে। Geyser এবং Hot Spring এই দুই ক্ষেত্রে ভূপৃষ্ঠের আভ্যন্তরীণ জল। ভূগর্ভের অভ্যন্তরে উত্তপ্ত শিলার সংস্পর্শে এসে গরম হয় ও ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগের দিকে উঠে আসে।

~~~~~~~~~~~~~~~

স্বপ্নীলা রায় বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর স্থিত গ্লোকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর রূপে কর্মরতা। পূর্বে তিনি কে কে ইউনিভার্সিটি, নালন্দা, বিহারেও সহকারী অধ্যাপিকা হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ রসায়নবিদ্যায় পিএইচডি অর্জন করেন।

 

Leave a Reply

free hit counter
error

লেখা ভালো লেগে থাকলে দয়া করে শেয়ার করবেন।