সত্যিই কি অদ্ভুত প্রাণী ওরা!

প্রিয়জনদের শেয়ার করুন
136 বার লেখাটি পঠিত হয়েছে ~~~

~ কলমে এলেবেলে সঞ্চারী ~

দাদু, শিম্পাঞ্জিদের আচরণ অনেকটা মানুষের মত না? প্রশ্ন করলো ছোট্ট রিনি তার দাদুকে। সে এইবার গরমের ছুটিতে একদিন চিড়িয়াখানা থেকে ঘুরে এসেছে, তাই হয়ত তার মাথায় এই প্রশ্ন এসেছে।

দাদু বললেন— হ্যাঁ, একদমই তাই। তুমি সেটা লক্ষ্য করেছো দিদিভাই?

রিনি বললো— হ্যাঁ দাদু। আর আমার এই গোটা চিড়িয়াখানার মধ্যে শিম্পাঞ্জিকেই সবচেয়ে আশ্চর্য প্রাণী বলে মনে হয়েছে।

আচ্ছা দাদু তুমি ওদের ব্যাপারে আমাকে আর কিছু বলতে পারবে?

ওদের নিয়ে একটা গল্প বলো না, প্লিজ..

আচ্ছা আচ্ছা, ঠিক আছে দিদিভাই, তাহলে তোমাকে আজকে শিম্পাঞ্জিদের জীবন যাপন এর কিছু গল্প বলছি।

শিম্পাঞ্জিদের আদি বাসস্থান হলো আফ্রিকার জঙ্গল। এরাই হলো মানুষের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী। এদের সাথে মানুষের আচরণ এর অনেকটা মিল পাওয়া যায় যেমন—

🔴Tai শিম্পাঞ্জিরা কাঠ ও পাথর দিয়ে একরকম হাতুড়ির মতো জিনিস বানায়, যা দিয়ে তারা বাদামের খোলা ভাঙে, একদম মানুষের মতোই। Fongoli Assirik শিম্পাঞ্জিরাও পাথর দিয়ে বাওবাব ফলের খোলা ভেঙে ফল খায়।

🔴এমনকি শিম্পাঞ্জিরা ভেষজ গাছের পাতাও ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করতে জানে। ওরা পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হলে ওষুধি গাছের (Aspilia rudis) পাতা খায়। Fongoli স্ত্রী শিম্পাঞ্জিরা হিক্কা ওঠার সময়ও গাছের পাতা খেয়ে হিক্কা ওঠা বন্ধ করে।

🔴 আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো শিম্পাঞ্জিদের উইপোকা শিকার করা।

ওরা মূলত গন্ধ শুঁকে উইপোকার খোঁজ পায়। এই গন্ধের উৎস হলো উইপোকার দেহ নিঃসৃত ফেরোমন।

(১) প্রথমে শিম্পাঞ্জিরা গাছের ডাল ভাঙে, তারপর সেই ডাল থেকে পাতাগুলো ছিঁড়ে ফেলে দেয়। তারপর সেই ডালকে উইএর ঢিবিতে ঢুকিয়ে দিয়ে উইপোকা দের টেনে বের করে আনে।

(২) শক্ত পাথর বা কাঠ দিয়ে উইপোকার ঢিবি ভেঙে উইপোকা শিকার করে।

এই দুইভাবে ওরা উইপোকা শিকার করে।

🔴শিম্পাঞ্জিরা ছুঁচোলো লম্বা ডাল দিয়ে গাছের গর্তে থাকা ছোটো স্তন্যপায়ী প্রাণীদের শিকার করে। মূলত খাদ্যের অভাব হলে স্ত্রী ও বাচ্চা শিম্পাঞ্জিরা এইভাবে শিকার করে।

🔴 আর একটা অবাক ব্যাপার হলো এরা পুরো মানুষের মতো গালে হাত দিয়ে ভাবনা চিন্তা করে। Jilli Pruetz এর মতে শিম্পাঞ্জিরা মানুষের মতোই দুঃখ, কষ্ট, আনন্দ, খুশি প্রভৃতি অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে।

🔴ঠিক যেভাবে মা তার সন্তানকে আগলে রাখে, ঠিক সেভাবেই শিম্পাঞ্জিরা তাদের শিশুদের আগলে রাখে।

🔴অরণ্যে প্রায় ক্যানোপির কাছে ৩০ ফুট উপরে গাছের ডালকে পা দিয়ে আঁকড়ে ধরে, এবং অত্যন্ত দ্রুত চলাফেরা করে। অনেক বিজ্ঞানীদের মতে দ্বিপদ গমনের অভিযোজন মাটিতে নয়, শুরু হয় গাছের ডালে।

🔴মানুষের মতো এরাও আরাম প্রিয়, অনেক সময় এরা খাবার এর সন্ধানে না গিয়ে শুধুমাত্র ফল খেয়ে সারাদিন কাটিয়ে দেয়।

কি দিদিভাই কেমন লাগলো শিম্পাজিদের জীবন যাপন এর গল্প?

বাহঃ! সত্যিই কি অদ্ভুত প্রাণী ওরা দাদু…..

——————————–

 এলেবেলে দলবলের কনিষ্ঠতম সদস্য সঞ্চারী রায়চৌধুরী শিবহাটী হাই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী।

Leave a Reply

free hit counter
error

লেখা ভালো লেগে থাকলে দয়া করে শেয়ার করবেন।