ওদের আজব কান্ডকারখানা

প্রিয়জনদের শেয়ার করুন
357 বার লেখাটি পঠিত হয়েছে ~~~

~ কলমে এলেবেলে সঞ্চারী ~

বেশ কিছু দিন ধরে স্কুলে গরমের ছুটি থাকায় রিনির বেশ ভালোই হয়েছে। সে তার দাদুর কাছে গল্প শোনার জন্য আরো একঘন্টা বেশি সময় পেয়েছে। আজকে দুপুরে সব্বার আগে খেয়েদেয়ে সে দাদুর ঘরে হাজির। তাকে দেখেই দাদু বললেন— বলো দিদিভাই আজকে তুমি কি গল্প শুনতে চাও?” সঙ্গে সঙ্গে রিনির উত্তর পাওয়া গেল, সে বোধ হয় এই প্রশ্নটার জন্য আগে থেকেই তৈরি ছিল। সে বলল—তুমি যেমন আগের দিন শিম্পাজিদের আজব কান্ডকারখানার গল্প বললে, আজকেও ওই রকমই কোনো অদ্ভুত প্রাণীর অদ্ভুত আচরণ এর গল্প বলো না, দাদু…”

দাদু কিছুক্ষণ চুপ করে ভেবে বললেন, ঠিক আছে, আজকে তোমাকে মৌমাছিদের বার্তা আদান প্রদান-এর গল্প শোনাবো। রিনির চোখে মুখে একটা রুপালি ঝলক উঁকি দিলো,

দাদু বললেন—

🔴মৌমাছিদের মৌচাকে তিন ধরনের মৌমাছি থাকে,পুরুষ মৌমাছি, রানী মৌমাছি আর শ্রমিক মৌমাছি। এই শ্রমিক মৌমাছিরা বাচ্চা মৌমাছি দের দেখাশুনা(লালন পালন) করে, এবং খাদ্য সংগ্রহ করে। খাদ্যের অনুসন্ধান এবং খাদ্য সংগ্রহ করার কাজের দুই ধরনের শ্রমিক মৌমাছি যুক্ত থাকে,

১● স্কাউট কর্মী মৌমাছি— যারা খাদ্যের সন্ধান আনে,

২●ফোরেজার কর্মী মৌমাছি— যারা খাদ্য সংগ্রহ করে আনে।

আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো এদের এই খাদ্য সন্ধান সংক্রান্ত বার্তা আদান প্রদানের ব্যাপারটা!

স্কাউট মৌমাছিরা এই বার্তা মৌচাকের সামনে দুই প্রকার নাচের মাধ্যমে প্রকাশ করে। শ্রমিক মৌমাছিদের আন্দোলিত উদর, নাচের সময়কাল ও কিভাবে নাচছে তার উপর ভিত্তি করে অন্যান্য শ্রমিক মৌমাছিরা(ফোরেজার) মৌচাক ছেড়ে খাদ্য সংগ্রহ করতে বেরিয়ে পড়ে এবং খুব তাড়াতাড়ি খাদ্যের উৎসস্থানে পৌঁছে যায়।

এবার তোমাকে বলব এই স্কাউট মৌমাছিরা কিভাবে এই দু ধরনের নৃত্য প্রদর্শন করে।

🔴চক্রাকার নৃত্য বা বৃত্তাকার নৃত্য (Round dance) খাদ্যের উৎস মৌচাকের ১০০ মিটার এর মধ্যে অবস্থিত  হলে এরা চক্রাকার নৃত্য পরিবেশন করে।

🔴ওয়াগেল বা ওয়াগটেল নৃত্য(Waggle dance) 

মৌচাক থেকে খাদ্যের দুরত্ব ও মৌচাকের সাপেক্ষে খাদ্যের অবস্থান নির্ণয় এর জন্য মৌমাছিরা এই প্রকার নৃত্য পরিবেশন করে।

খাদ্যের উৎস মৌচাক থেকে ১০০ মিটার এর বেশি দূরে হলে এর ইংরেজি ‘8’এর মতো করে নাচ করে। একে বলে ওয়াগেল বা ওয়াগটেল নৃত্য।

এই নৃত্যের অভিমুখ ঊর্ধ্বমুখী হলে খাদ্যের উৎস সূর্যের দিকে এবং নৃত্যের অভিমুখ নিম্নমুখী হলে খাদ্যের উৎস সূর্যের বিপরীত দিক নির্দেশ করে।

নৃত্য যদি বামদিকে ৬০°কোণ করে হয় তাহলে খাদ্যের উৎস হবে মৌচাকের বাম দিকে ৬০° কোণে।

নৃত্য যদি ডানদিকে ১২০° কোণে হয় তাহলে খাদ্যের উৎস মৌচাকের ডানদিকে ১২০° কোণ করে থাকবে।

🔴 শ্রমিক মৌমাছিদের উদরখণ্ডকের কাছে ন্যাসনভ গ্রন্থি থাকে।এই থেকে ন্যাসনভ ফেরোমোন নির্গত হয়, যা হারিয়ে যাওয়া শ্রমিক মৌমাছিদের ফিরতে ও খাদ্যের অনুসন্ধানে সাহায্য করে।

“কি দিদিভাই, কেমন লাগলো মৌমাছিদের বার্তা আদান প্রদান?”

রিনি এখনো অবাক হয়েই উত্তর দিলো— “কি দারুণ!”


  এলেবেলে দলবলের কনিষ্ঠতম সদস্য সঞ্চারী রায়চৌধুরী শিবহাটী হাই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী।

Leave a Reply

free hit counter
error

লেখা ভালো লেগে থাকলে দয়া করে শেয়ার করবেন।